মাত্র ৪২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। অতিরিক্ত বালি এবং জল খেয়ে ফেলে ফুসফুস ফুকে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। এমনটাই তাঁর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে। তবে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল সেটা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এক একজন এক একরকম উত্তর দিচ্ছেন। এবার সেই বিষয় কী বললেন রেশমি সেন এবং কৌশিক সেন। 

এদিন রাহুলের বাড়িতে গিয়েছিলেন ঋদ্ধি, কৌশিক এবং রেশমি সেন। সেখান থেকে ফিরে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ঋদ্ধি। তাতে কৌশিক এবং রেশমি সেনকে যৌথ ভাবে বলতে শোনা যায়, "রেশমি, ঋদ্ধি আমি সকালে রাহুলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ওর মা, প্রিয়াঙ্কা, সহজের সঙ্গে দেখা করলাম। ওদের অনেক আত্মীয়রা রয়েছেন। রাহুলের দাদাও ফিরছেন। সকলের সঙ্গে দেখা, কথা হল। রাহুল আমাদের সকলের প্রিয় মানুষ ছিল। আশা করি বুঝতে পারছেন এমন একটা বাড়ি থেকে ফেরার পর আমাদের সবার মনের অবস্থা কেমন ছিল। এই শোকের তো সত্যি সত্যিই কোনও সান্ত্বনা নেই। একটা সময় সবাই কাজে ফিরে যাবে, বাড়িটা ফাঁকা হবে। তখন ওরা কী করবে।" 

তাঁরা এদিন তদন্তের দাবি করে বলেন, "রাহুলের মৃত্যু নিয়ে এত কথা হচ্ছে, এত প্রশ্ন উঠছে। এত অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে, প্রতিটি মানুষের ভার্সন আলাদা। সেটা কেন? একটা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। আমাদের থেকেও বেশি রাহুলের মায়ের জানা জরুরি কেন তাঁর ছেলে চলে গেল। কী ঘটেছিল? তাঁর ছেলে কি শুটিং করছিল? নাকি করছিল না? সে নিজেই চলে গিয়েছিল? যে চলে গেছে সেই রাহুলের মুখেই বার্তা বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে রাহুল এটা বলেছিল, রাহুল এটা চেয়েছিল।" 

রেশমি সেন আরও বলেন, "রাহুলের মাকে দেখলে বুঝতে পারতেন। গোটা বাড়ি জুড়ে ওর ছবি, লেখা। ওর মায়ের তো জানতে হবে, ছেলেটা কেন চলে গেল? আমরা ধরে নিচ্ছি এটা দুর্ঘটনা, কিন্তু তার তো দায় নিতে হবে। সামনে ভোট আসছে, সবার ব্যক্তিগত জীবন আছে। তিন দিন পর কিন্তু আর রাহুলের কী হয়েছিল, কোন অসঙ্গতি সেই প্রশ্নটা আর থাকবে না। গুলিয়ে যাবে।" 

কৌশিকের কথায়, "শিল্পী হিসেবে জানতে চাই। আমাদের একটা সংগঠন আছে, আর্টিস্ট ফোরাম, সেটা দায়িত্ব এড়াতে পারে না। আমরাও পারি না। কাউকে দোষারোপ করছি না। আমরাও এর সদস্য। কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তার জন্য জানতে হবে। আর্টিস্ট ফোরামের এটা দায়িত্ব রাহুলের কেন এমন হল সেটা খুঁজে বের করা। শোনা যাচ্ছে, ঘটনাটা ঘটার পর টেকনিশিয়ান ভাইরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাঁদেরও তো বিপদ হতে পারত। ফেডারেশনের সঙ্গে কি তাঁদের সেই কথোপকথন হয়েছে বা শিল্পীদের সঙ্গে আর্টিস্ট ফোরামের? এমন যদি পুনরায় ঘটে তাহলে নিরাপত্তার জন্য কী থাকবে?" 

সেন পরিবারের শেষ কথা একটাই, "রাহুলের মৃত্যু অনেকগুলো প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল। এই উত্তরগুলো চাই।" 

প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে টলিউডে কাজ করছেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায়, ওয়েব দুনিয়ায় ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। বর্তমানে তাঁকে দর্শকরা 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকে দেখতে পাচ্ছিলেন। তাঁর এবং শ্বেতা মিশ্রর রসায়ন দর্শকদের নজর কেড়েছিল। টিআরপিতেও তার ফল দেখা যাচ্ছিল। এছাড়া তিনি আগে 'হরগৌরী পাইস হোটেল' ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। এছাড়া তাঁকে দর্শক সদ্যই 'ঠাকুমার ঝুলি' সিরিজে দেখেছেন। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে হইচই প্ল্যাটফর্মের এই সিরিজে তিনি ছিলেন। অভিনয় করেছিলেন দারোগার চরিত্রে। অভিনয় ছাড়া রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় 'সহজ কথা' নামক একটি পডকাস্ট শো সঞ্চালনা করতেন। 

২৯ মার্চ না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের উজান এবং কুইনের মধুচন্দ্রিমার শুটিং চলছিল। সেই সময়ই হঠাৎই জলে পড়ে যান অভিনেতা। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।