বাংলা গানের শিল্পী, সুরকার এবং সঙ্গীত নির্মাতাদের জন্য বড় সুখবর। বাংলা সঙ্গীতকে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে হাত মেলাল ওয়ার্নার মিউজিক ইন্ডিয়া এবং এসভিএফ। কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তর শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে দুই সংস্থা।
ওয়ার্নার মিউজিক ইন্ডিয়া বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার গানকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। দক্ষিণ ভারতীয়, পাঞ্জাবি, হরিয়ানভি এবং ভোজপুরি সঙ্গীতের পর এবার তাদের নজর বাংলার সঙ্গীত জগতে। সংস্থার মতে, বাংলা গানের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ওয়ার্নার মিউজিক ইন্ডিয়ার এই পদক্ষেপকে বাংলা সঙ্গীত জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং এসভিএফ-এর দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা একত্রিত হলে বাংলা গানের নতুন বাজার তৈরি হবে এবং শিল্পীদের জন্য আরও বড় সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সঙ্গীত এবং ডিজিটাল কনটেন্টের জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এসভিএফ। সংস্থাটি ১৮০টিরও বেশি বাংলা ছবি প্রযোজনা করেছে এবং বিভিন্ন ভাষায় ১,৪০০-রও বেশি ছবি বিতরণ করেছে। পাশাপাশি বাংলা গানের অন্যতম বড় ক্যাটালগও গড়ে তুলেছে তারা।
ওয়ার্নার মিউজিক ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় মেহতা জানিয়েছেন, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সঙ্গীত বহু প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে। সেই উত্তরাধিকারকে আরও জোরদার করতে এসভিএফ-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই অংশীদারিত্ব বাংলা শিল্পীদের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে, এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মহেন্দ্র সোনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বাংলা শিল্পী এবং সঙ্গীতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে এসভিএফ। বর্তমানে ভাষা ও ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্নার মিউজিক ইন্ডিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাংলা গানের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
প্রসঙ্গত, এসভিএফএর সঙ্গীত ভাণ্ডারে রয়েছে অরিজিৎ সিং, শ্রেয়া ঘোষাল, অনুপম রায় এবং জিৎ গাঙ্গুলির মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের অসংখ্য গান। 'তোমাকে চাই', 'বোঝেনা সে বোঝেনা'-র মতো একাধিক হিট গান এখনও শ্রোতাদের মধ্যে সমান জনপ্রিয়।
এই চুক্তি শুধু দুই সংস্থার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব নয়, বরং বাংলা সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার একটি বড় পদক্ষেপ। ফলে আগামী দিনে বাংলা গানের বৈশ্বিক উপস্থিতি আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।
















