চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে চলেছেন অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ। তীক্ষ্ণ অভিনয় দক্ষতা ও স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব -দু'টোর জন্যই তিনি সমানভাবে পরিচিত। 'মন্ডি', 'মির্চ মসালা', 'পহেলি', 'গোলমাল ৩', 'কাপুর অ্যান্ড সন্স', 'লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা', 'খুবসুরত', 'থাপ্পড়', 'ঢক ঢক' -তাঁর সমৃদ্ধ ফিল্মোগ্রাফি যেন এক চলমান ইতিহাস।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জীবনের নানা দিক, পেশাগত সিদ্ধান্ত এবং সহ-অভিনেতাদের নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে 'কাপুর অ্যান্ড সন্স'-এ তাঁর সহ-অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের নাম।
রত্না জানান, সেটে আলিয়ার আচরণ তাঁকে আলাদা করে ভাবতে বাধ্য করেছিল। তাঁর কথায়, “ও ভীষণ মনোযোগী। আমি যেটা লক্ষ্য করেছি, ও প্রায় সবসময় মনিটরের সামনে থাকত। নিজের শটের সময় নয়, অন্যরা অভিনয় করলেও মন দিয়ে দেখত। খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করত।”
বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর মতে, অনেক তরুণী অভিনেত্রী সেটে ‘কিউট’ ইমেজ ধরে রাখার একটা অদৃশ্য চাপ অনুভব করেন। সবসময় প্রাণবন্ত, মিষ্টি উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু সেই প্রবণতা অভিনয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রত্নার স্পষ্ট মন্তব্য, “ শুটিংয়ে আলিয়া খুব বেশি কথা বলত না। আজকাল অনেকেই ভাবে সেটে ‘কিউট’ থাকলেই সুবিধা হবে। কিন্তু তা অনেক সময় অভিনয়কে দুর্বল করে দেয়। আলিয়ার ক্ষেত্রে সেটা দেখিনি।”
তিনি আরও জানান, দু’জনের একসঙ্গে কোনও দৃশ্য না থাকায় তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা খুব বেশি হয়নি। তবু দূর থেকে আলিয়ার কাজের প্রতি একাগ্রতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। “আমি ভীষণ ইমপ্রেসড হয়েছিলাম। ও চুপচাপ নিজের কাজ করত। খুব বেশি কথা হয়নি আমাদের। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, ও অসাধারণ প্রতিভাবান এবং লক্ষ্যভেদী। আমি ওকে পছন্দ করেছি,” বলেন রত্না পাঠক শাহ।
&t=313s
তারকার ঝলকানি, প্রচার আর সোশ্যাল মিডিয়ার কোলাহলের বাইরে রত্নার কথায় উঠে এল এক অন্য আলিয়া ভাট। যে আলিয়া আলোচনায় নয়, কাজে বিশ্বাসী; যে ‘কিউট’ হওয়ার চেয়ে অভিনেত্রী হওয়ার দায়িত্বটাই বেশি গুরুত্ব দেয়। আর সেই পেশাদার মনোভাবই হয়তো তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে সমসাময়িকদের ভিড় থেকে।
