২০২৩ সালে মুক্তির পর বক্স অফিসে ঝড় তোলে শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও জন আব্রাহাম অভিনীত ‘পাঠান’। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত এই ছবির মাধ্যমেই অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতির পর বড়পর্দায় কামব্যাক করেছিলেন শাহরুখ। এ ছবির অন্যতম আকর্ষণ ছিল অল্প সময়ের জন্য সলমন খানের 'টাইগার' উপস্থিতি। টাইগার চরিত্রে তাঁর ও পাঠান শাহরুখের রিইউনিয়নছিল দর্শকদের জন্য ছিল বাড়তি চমক।

ছবির একটি ট্রেনের দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সেখানে শাহরুখ ও সলমন মজার ছলে বলেন, তাঁদের জায়গা নেওয়ার মতো এখনও কেউ তৈরি হয়নি। সংলাপটি যেমন ছবির প্রেক্ষিতে ছিল, তেমনই বলিউড ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতাকেও যেন ইঙ্গিত করেছিল, এমনটাই মনে করেছিলেন অনেকে।

বছর কয়েক পর সেই দৃশ্য নিয়েই মন্তব্য করলেন আমির খান। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ ওই যে ছবির শেষে সলমন আর শাহরুখ বসে আলোচনা করছে, কে তাঁদের জায়গা নেবে। বিষয়টা কিন্তু ছিল খানিকটা মজার ছলেই। ছবির ভেতরের প্রসঙ্গ হলেও, ছবির বাইরের বাস্তবতাকেও ছুঁয়ে গিয়েছিল। মানুষ হাসছিল, উপভোগও করেছিল। নাম না করলেও অনেকেই বুঝেছিলেন শাহরুখ-সলমন কী বলতে চাইছেন।”

তবে আমিরের মতে, সময় বদলেছে। বলিউডের নতুন প্রজন্ম ইতিমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। তাঁর কথায়, “‘ছাবা’র ভিকি কৌশল, ‘অ্যানিম্যাল’-এর রণবীর কাপুর, ‘ধুরন্ধর’-এর রণবীর সিং -ওরা শুধু আছে তাই নয়, আমাদের সঙ্গে সমানে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে।”আমির আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতারা অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং ধারাবাহিকভাবে ভাল কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছেন। তাঁর মতে, স্টারডম এখন আর একমুখী নয়; বরং বিভিন্ন অভিনেতা নিজেদের কাজের জোরে দর্শকের আস্থা অর্জন করছেন।

 

&t=313s

 

অন্যদিকে, আমিরের ভাইপো ইমরান খানও সম্প্রতি খানদের প্রসঙ্গে মত প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা হিসেবে পর্দায় কামব্যাকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইমরান। তাঁর মতে, প্রবীণ তারকাদের বয়সোপযোগী চরিত্রে অভিনয় করা উচিত এবং নতুন প্রজন্মকে বেশি সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ইমরানের মন্তব্য, বর্তমান তরুণ দর্শক হয়তো সত্তরোর্ধ্ব চরিত্রের গল্পে আগ্রহী নাও হতে পারেন।

সব মিলিয়ে, ‘পাঠান’-এর সেই সংলাপ আবারও সামনে এনে দিল বলিউডের এক চিরন্তন প্রশ্ন -সুপারস্টারের যুগ কি বদলে যাচ্ছে না কি স্টারডমের সংজ্ঞাই নতুন করে লেখা হচ্ছে? সময়ই হয়তো তার উত্তর দেবে।