দিল্লি হাই কোর্টে রাজপাল যাদবের জামিন শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি হওয়ার পর আদালত চত্বরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তাঁর আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়। তিনি জানান, বিরোধী পক্ষ এখনও তাঁদের জামিনের আবেদনের জবাব দেয়নি, সেই কারণেই শুনানি পিছিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বলিউডের একাধিক তারকা রাজপালের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কথায়, অর্থসংক্রান্ত বিরোধে জড়িত সংস্থা মুরালি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড পূর্বে ৫ কোটি টাকার অর্থগ্রহণের প্রস্তাবও নাকচ করেছিল।

চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাজপাল সম্প্রতি তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন। বৃহস্পতিবার তাঁর জামিনের আবেদন হাই কোর্টে ওঠে, তবে তা সোমবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়।

ভাস্কর বলেন, “বিরোধী পক্ষ আমাদের জামিন আবেদনের জবাব দেয়নি। তাই সময় নেওয়া হয়েছে। আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি, যাতে জেলে গিয়ে রাজপালের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ নিতে পারি। আদালত মূলত তাঁর আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিতেই গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা চাই মামলাটি মূল বিষয়ের ভিত্তিতে শোনা হোক। সোমবারের মধ্যে জবাব আসবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও জানান, শুনানির আগে রাজপালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। এদিন তিনি আদালতে ৫০ লক্ষ টাকার একটি চেকও নিয়ে এসেছিলেন।

আইনজীবীর দাবি, একটি ছবির জন্য মুরালি প্রোজেক্টস পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল, যা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে রাজপাল কখনও অস্বীকার করেননি। “পাঁচ কোটি টাকার একটি সম্মতিপত্র ছিল, যা পরবর্তীতে কার্যকর করা হয়। একটা সময় অপর পক্ষ সেই অর্থ নিতে অস্বীকার করে, যা অর্ডার শিটে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাঁরা কারাবাসের আবেদন করেন। সেই ডিক্রির পরিপ্রেক্ষিতেই তিন মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,” বলেন আইনজীবী। ২০১২ সালের একটি চুক্তিকে ঘিরেই এই মামলার সূত্রপাত, যা এখনও আদালতে বিচারাধীন।

রাজপালের আত্মসমর্পণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর প্রতি সমর্থন জানানো হচ্ছে। অভিনেতা সোনু সুদ প্রকাশ্যে সাহায্যের প্রস্তাব দেন। রাজপালের স্ত্রী ও ম্যানেজার রাধা জানান, সলমন খান ও অজয় দেবগণের মতো তারকারাও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভাস্কর বলেন, “টাকার অঙ্ক নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে তিনি সহায়তা পাচ্ছেন। কে কতটা সাহায্য করেছেন, তা প্রকাশ করতে চাই না। অনেকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, কারণ তাঁরা সত্যিটা জানতে চান। আমরা মনে করি, কেবল কথা ন রাখতে পারার কারণে কাউকে জেলে পাঠানো উচিত নয়। আদালতে অর্থ জমা দিতে আমরা প্রস্তুত। সত্য সামনে আসুক।”

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত রাজপালকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করে, “আপনি নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলেই জেলে গিয়েছেন।” 
অপরদিকে অর্থদাতা সংস্থার আইনজীবী অবনীত সিং সিক্কা জানান, রাজপাল তাঁর সাজা চ্যালেঞ্জ করেছেন। বলেন, “তিনি ১.৫ কোটি টাকার সাতটি চেক সই করেছিলেন। প্রতিটি চেক বাউন্সের জন্য তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা না দিয়ে তিনি হাই কোর্টে আবেদন করেন, কিন্তু আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে।”

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালে তিনি মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। তবুও সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেননি। বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মার আদালতে একাধিকবার সময় চেয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা জমা দেন। অবশিষ্ট অর্থ না দেওয়ায় ২ ফেব্রুয়ারি আদালত তাঁকে দু’দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। ৪ তারিখেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। বরং আরও সময় চেয়ে আবেদন করেন।”

শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করে তিনি আইনজীবী পরিবর্তন করেন এবং নতুন করে জামিনের আবেদন করেন। জানা গিয়েছে, ভাইঝির বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্যই তিনি জামিন চাইছেন।  মামলার পরবর্তী শুনানি এখন সোমবার। তার আগে দুই পক্ষের অবস্থান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।