অফিসে কোনও সহকর্মী হঠাৎ এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলে সবসময় যে তা স্বস্তির অনুভূতি দেবে, এমন নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে স্পষ্ট নীতি থাকে, অপ্রয়োজনীয় শারীরিক স্পর্শ এড়িয়ে চলার। তবু বাস্তবে এমন পরিস্থিতি মাঝেমধ্যেই তৈরি হয়। প্রশ্ন তখন একটাই-সহকর্মী যদি ‘হাগার’ হন, আপনি কি হাসিমুখে গ্রহণ করবেন না কি পেশাদার দূরত্ব বজায় রাখবেন?বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে সামলানো জরুরি। প্রয়োজন হলে স্পষ্ট বার্তাও দিতে হবে। তবে তা যেন ভদ্র ও পেশাদার ভঙ্গিতেই হয়।
2
7
আলিঙ্গন এড়িয়ে ইঙ্গিত দিন
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পরামর্শ, সরাসরি অপমান না করে আচরণে পরিবর্তন আনুন। কেউ এগিয়ে এলে হাই-ফাইভ দিতে পারেন বা হাত বাড়িয়ে করমর্দনের ভঙ্গি প্রকাশ করুন। এতে বোঝানো যায়, আপনি বন্ধুসুলভ হলেও আলিঙ্গনে স্বচ্ছন্দ নন। আরেকটি কৌশল হতে পারে হালকা করে পিঠ চাপড়ে দেওয়া বা পাশ থেকে স্পর্শ করা, পুরোপুরি আলিঙ্গনের বদলে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কথায়, “অফিসে পুরোপুরি আলিঙ্গন অনেক সময় অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়। আপনি যদি জড়িয়ে না ধরেন, সেটাই বার্তা পৌঁছে দেবে।”
3
7
পেশাদার ইমেজের কথা মনে রাখুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে আচরণ আপনার পেশাদার পরিচিতি তৈরি করে। কর্পোরেট দুনিয়ায় শীর্ষ কর্তাদের কাউকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় না। আপনি যেমন কাঙ্ক্ষিত পদ অনুযায়ী পোশাক পরেন, তেমনই আচরণেও সেই ভারসাম্য থাকা দরকার।যদি কোনও সহকর্মী নিয়মিত জড়িয়ে ধরেন, তবে হালকা রসিকতার সুরে বলতে পারেন, “আমরা যদি বারবার হাগ করি, সেটা কিন্তু আমাদের পেশাদার ভাবমূর্তির জন্য ভাল দেখাবে না।” এতে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে দু’জনেরই কেরিয়ারের স্বার্থের কথা তুলে ধরা যায়।
4
7
অফিসের বাইরে পরিস্থিতি আলাদা
তবে সব পরিস্থিতি এক নয়। অফিসের আনুষ্ঠানিক পরিবেশে যেখানে দূরত্ব জরুরি, সেখানে হ্যাপি আওয়ার, ছুটির পার্টি বা টিম-বিল্ডিং অনুষ্ঠানে আচরণ কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, “সামাজিক ইঙ্গিত বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে অনেক সময় পরিবারের থেকেও বেশি সময় কাটে। কিছু মুহূর্তে সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতেই পারে।” তবে দীর্ঘ ছুটি, মাতৃত্বকালীন বা পিতৃত্বকালীন ছুটি থেকে ফিরে এলে সহকর্মীদের উচ্ছ্বাসে আলিঙ্গন আসতেই পারে ,তবে এগুলো সবটাই পরিস্থিতিনির্ভর।
5
7
প্রয়োজন হলে স্পষ্ট করে বলুন
ইঙ্গিত দেওয়ার পরও যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তবে সরাসরি কথা বলা জরুরি। “আমি হাগ করতে পছন্দ করি না” এই সরল বাক্য অনেক সময়েই কাজ করে। এতে বিষয়টি ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে উপস্থাপিত হয়, অভিযোগ হিসেবে নয়।তবুও যদি সহকর্মী থামেন না, তখন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলা ভাল।
6
7
কারণ প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি এইচআর-এ গেলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক তদন্তে গড়াতে পারে।
7
7
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কর্মক্ষেত্র যেন অস্বস্তিকর বা শত্রুতার পরিবেশে পরিণত না হয়। ভদ্র কিন্তু দৃঢ় অবস্থানই এখানে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। কারণ অফিসে সৌজন্য ও সীমারেখার ভারসাম্য রক্ষা করাই কিন্তু পেশাদারিত্বের আসল পরীক্ষা।