অনেকেই মনে করেন প্রতিদিন একবার মলত্যাগ করাই সুস্থতার মাপকাঠি। আর তার কম হলেই সমস্যা। কিন্তু বাস্তবে অন্ত্রের স্বাস্থ্য অত্যন্ত ব্যক্তিনির্ভর। খাদ্যাভ্যাস, জলপান, শারীরিক পরিশ্রম এবং দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অভ্যাস, সব মিলিয়েই নির্ধারিত হয় কার জন্য কোনটা স্বাভাবিক।
ফ্লোরিডা-ভিত্তিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. জোসেফ সালহাব সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওয় এই বহুল প্রচলিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন মলত্যাগ করতেই হবে, এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং কোন লক্ষণগুলি সতর্কবার্তা হতে পারে, সেদিকেই বেশি নজর দেওয়া উচিত।
ডা. সালহাবের মতে, প্রতিদিন একবার মলত্যাগ একটি যুক্তিসঙ্গত ও স্বাস্থ্যকর লক্ষ্য হতে পারে, তবে প্রতিদিন না হলেও তা স্বাভাবিকের মধ্যেই পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, দিনে তিনবার থেকে সপ্তাহে তিনবার, এই পরিসরের মধ্যে যেকোনও ফ্রিকোয়েন্সি স্বাভাবিক হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আপনার দীর্ঘদিনের স্বাভাবিক অভ্যাস। কেউ যদি সপ্তাহে তিনবার মলত্যাগ, আবার কেউ দিনে তিনবার, দুটোই স্বাভাবিক হতে পারে। আবার কেউ দিনে একাধিকবার গেলেও যদি মল শক্ত ও ছোট ছোট দানার মতো হয়, তা কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ হতে পারে। অন্য দিকে কেউ যদি একদিন অন্তর যান কিন্তু মলের গঠন ও আকার স্বাভাবিক থাকে, তবে সেটিও স্বাভাবিক বলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, “আপনার জন্য কী স্বাভাবিক, সেটাই আসল বিষয়। যদি বহু বছর ধরে একদিন অন্তর স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করে থাকেন এবং তাতে কোনও অস্বস্তি না থাকে, তবে সেটি কোষ্ঠকাঠিন্য নয়।”
কী বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
ডা. সালহাব জানান, শুধুমাত্র কতবার মলত্যাগ করছেন তা নয়, বরং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল করা দরকার।
ধারাবাহিকতা
আপনার স্বাভাবিক প্যাটার্নে কোনও স্থায়ী বা অকারণ পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গঠন
স্বাস্থ্যকর মলের গঠন সাধারণত সসেজের মতো, উপরিভাগে হালকা ফাটল থাকতে পারে, অথবা মসৃণ ও নরম সাপের মতো আকার হতে পারে। এগুলোকে সাধারণত সুস্থতার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
রং
মলের রং সাধারণত বাদামি হওয়া উচিত। খাবারের প্রভাবে মাঝে মাঝে রঙের পরিবর্তন হতে পারে, তবে দীর্ঘদিন ধরে হলুদ, রক্তমিশ্রিত বা অস্বাভাবিক গাঢ় রং হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
কোন লক্ষণগুলো সতর্কবার্তা?
ডা. সালহাব পরামর্শ দেন, ফ্লাশ করার আগে একবার নজর দেওয়া ভাল। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সূক্ষ্ম পরিবর্তন দ্রুত ধরা পড়তে পারে। নিয়মিত তিন দিনের বেশি মলত্যাগ না হলে তা কোষ্ঠকাঠিন্যের ইঙ্গিত হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ, তীব্র পেটব্যথা, পুরোপুরি পরিষ্কার না হলে বা মলে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, “যদি দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মলত্যাগের ফ্রিকোয়েন্সি কমে যায়, মল শক্ত হয়ে যায়, তীব্র ব্যথা বা রক্তপাত হয়, কিংবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, বমি, বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”
চিকিৎসকের বার্তা স্পষ্ট, প্রতিদিন মলত্যাগ করাই সুস্থতার একমাত্র মানদণ্ড নয়। বরং নিজের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বুঝে নেওয়া এবং অস্বাভাবিক পরিবর্তন নজরে রাখাই সুস্থ অন্ত্রের চাবিকাঠি।
