২৯ মার্চ না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পড়ে রইল তাঁর মঞ্চ, লেখা, পর্দা, অগণিত ভক্ত এবং পরিবার। কিন্তু অভিনেতা কি আগেই টের পেয়েছিলেন তাঁর মৃত্যু আসন্ন যে সেই কথা? যদি সেটা না হয়, তাহলে কেন বারবার তাঁর বিভিন্ন লেখা, পোস্টে ধরা পড়েছে সেই ইঙ্গিত?
গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লেখেন, 'সূর্যাস্ত ও অরুণোদয় একসাথে দেখার শেষ সুযোগ।' অভিনেতার মৃত্যুর পর ভাইরাল তাঁর এই পোস্ট। অনেকেরই প্রশ্ন কেন খামোকা তিনি এমন লিখলেন। এক ব্যক্তি এই পোস্টে লেখেন, 'এভাবে কথাটা সত্যি করে দিলে দাদা?' ছবিতে নৌকার মধ্যে রাহুলকে রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। দূরে নদীর জলে অস্তগামী সূর্য। অভিনেতা প্রিন্টেড শার্ট এবং রোদচশমা পরে দূরের দিকে তাকিয়ে।
এদিন আরও একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি গল্পের অংশ। ২০১৮ সালে তিনি আর্টিস্ট ফোরামের ম্যাগাজিনের জন্য লিখেছিলেন। সেই লেখার বক্তার বয়স ৪২ ছিল। ঠাকুর ভাসান দিতে গিয়ে জলে পা পিছলে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল প্রধান চরিত্র তথা বক্তার। সেই লেখার সঙ্গেও অভিনেতার মৃত্যুকালের বয়স, জলে তলিয়ে যাওয়া যেন অদ্ভুত ভাবে মিলে গিয়েছে। এমনকী সেই চরিত্রের বৈশিষ্ট্য সঙ্গে রাহুলের সঙ্গে অনেকটাই যেন মিলে যাচ্ছে।

এই পোস্ট, রাহুলের লেখা ইত্যাদি দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে তবে কি অভিনেতা বুঝেছিলেন তাঁর মৃত্যু আসন্ন? কোনও ইঙ্গিত পেয়েছিলেন কি? প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে, কিন্তু উত্তর অজানা। ঠিক যেমন তাঁর মৃত্যুর পর একাধিক অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে, ফলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে, কীভাবে তাঁর মৃত্যু ঘটল সেটা জানতে চেয়ে।
২৯ মার্চ না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের উজান এবং কুইনের মধুচন্দ্রিমার শুটিং চলছিল। সেই সময়ই হঠাৎই জলে পড়ে যান অভিনেতা। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ৩০ মার্চ ময়নাতদন্তের পর রাহুলের মৃতদেহ কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়। সেদিনই সন্ধ্যায় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য হয়েছে। তাঁর ছেলে সহজ তাঁর মুখাগ্নি করেছে।
প্রসঙ্গত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে টলিউডে কাজ করছেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায়, ওয়েব দুনিয়ায় ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। বর্তমানে তাঁকে দর্শকরা 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকে দেখতে পাচ্ছিলেন। তাঁর এবং শ্বেতা মিশ্রর রসায়ন দর্শকদের নজর কেড়েছিল। টিআরপিতেও তার ফল দেখা যাচ্ছিল। এছাড়া তিনি আগে 'হরগৌরী পাইস হোটেল' ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। এছাড়া তাঁকে দর্শক সদ্যই 'ঠাকুমার ঝুলি' সিরিজে দেখেছেন। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে হইচই প্ল্যাটফর্মের এই সিরিজে তিনি ছিলেন। অভিনয় করেছিলেন দারোগার চরিত্রে। অভিনয় ছাড়া রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় 'সহজ কথা' নামক একটি পডকাস্ট শো সঞ্চালনা করতেন।















