অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে রাজপথে নামছেন টলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। আগামী শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল বিকেল ৪টেয় টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ স্লোগান। আর সেই মিছিলে অংশ নিতে আবেদন জানালেন ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। 

 

ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে ঠিক কীভাবে মৃত্যু হয়েছে রাহুলের? এনিয়ে টলিপাড়ার তারকা থেকে আমজনতার মনে একাধিক প্রশ্ন দেখা গিয়েছে। নানা ধোঁয়াশার রহস্য উদঘাটন, সর্বোপরি রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর বিচার চেয়ে  ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। যেখানে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে ফেসবুকে পোস্ট করেন পিয়া সেনগুপ্ত। 


সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “সকলের প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় একটি শুটিং করতে গিয়ে ২৯ মার্চ প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর ন্যায় বিচার চেয়ে নাগরিক সমাজ একটি মিছিলে অংশগ্রহণ করার জনন্য ডাক দিয়েছে। আগামী শনিবার, বিকেল চারটের সময়ে, টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়ো থেকে মিছিল হবে।ইমপা-র সদস্যরা বহু বছর ধরে রাহুলের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে সঙ্গী ছিলেন। সেই কারণেই আমরা এই মিছিলের অংশ হয়ে রাহুলের মৃত্যুর ন্যায় বিচার চাইতে প্রস্তুত।”একইসঙ্গে তিনি তাঁর সংযোজন, “ইমপার তরফে রাহুলের অনুরাগীদের কাছেও আমাদের আবেদন রইল, এই মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য।”

[বানান এবং লেখা অপরিবর্তিত রাখা হল ]


অন্যদিকে, এই আন্দোলনের আবহেই ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর একটি বয়ান ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রথমে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়ে প্রযোজনা সংস্থার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছিল। কেন চিত্রনাট্যের বাইরে গিয়ে বিপজ্জনক শ্যুটিং করা হল, সেই প্রশ্নও তুলেছিল তারা। কিন্তু শনিবারের প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ফোরামের সাম্প্রতিকতম বিবৃতি টলিপাড়াকে চমকে দিয়েছে। ফোরাম স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মিছিলের জন্য তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তারা এই মিছিলের আহ্বায়কও নয়, এমনকি অংশগ্রহণকারীও নয়। তবে কোনও শিল্পী ব্যক্তিগতভাবে চাইলে মিছিলে যেতে পারেন।


ঠিক কী লেখা হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের ওই বিবৃতিতে? " আগামী শনিবার চার তারিখ বিকেল চারটে থেকে, সদ্য ঘটে যাওয়া রাহুলের মর্মান্তিক পরিণতির প্রতিবাদে, একটা মিছিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে    কে এই মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আহ্বান জানানো হয়নি। আমরা সংগঠন হিসেবে এর আহ্বায়ক নই, এতে অংশগ্রহণকারীও নই। তবে যদি কোনও শিল্পী ব্যক্তিগতভাবে এই মিছিলে অংশগ্ৰহণ করতে চান, তবে তা নিশ্চয়ই করতে পারেন। তাতেআমাদের সংগঠনের কোনও আপত্তি নেই।”


প্রসঙ্গত, আর্টিস্ট ফোরামের এই ‘দূরত্ব বজায় রাখা’র সিদ্ধান্ত নিয়ে স্টুডিও পাড়ায় কানাঘুষো শুরু হয়েছে। অনেক শিল্পীরই প্রশ্ন, যখন সহকর্মীর অকালমৃত্যুতে বিচার চাওয়ার সময় এল, তখন কেন সংগঠন হিসেবে ফোরাম সামনে থাকছে না?