প্রসেনজিৎ-পুত্র তৃষাণজিৎ কি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন? গত কয়েকদিন থেকেই নেটপাড়া থেকে অনুরাগীমহল সরগরম ছিল এ জল্পনায়। গুঞ্জনের সূত্রপাত। ফেসবুকের একটি পোস্ট। তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ থেকেই করা হয়েছিল তা। পোস্টে দেখা গিয়েছিল, বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে রাম নাম করেছেন তিনি! এরপরেই শুরু হয় ফিসফাস। এবার এই ব্যাপারেই মুখ খুললেন খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রশ্ন ওঠে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাসভবন ‘উৎসব’-এ গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তখনই কি এই ছবি?

এই প্রসঙ্গ উঠতেই প্রথমে খানিক হেসে উঠলেন ইন্ডাস্ট্রি। এতটুকুও বিরক্ত না হয়ে এই বিষয়ে বক্তব্য রাখলেন তিনি। আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি বললেন, “তৃষাণজিতের সমাজমাধ্যমে আবার কে দেখভাল করবে? ও নিজেই করে। তবে ফেসবুকের যে প্রোফাইল থেকে ওই পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি তৃষাণজিতের নয়! ওটা ওর নামের একটা ফেক প্রোফাইল! আর আজকাল দিব্যি বোঝা যায় কোন ছবি জাল ছবি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে এই ছবিটি তৈরি' করা হয়েছে। আর সত্যি কথা বলতে কী, আমার হাসি-ই পাচ্ছে এসব বলতে।অদ্ভুত লাগছে ২০ বছরের একটি ছেলের ছবি নিয়েও ফেক পোস্ট করা হচ্ছে...আর শুধু তাই নয়, এই ব্যাপারটার সঙ্গে আমাকেও জুড়ে দেওয়া হল!”
খানিক থামলেন বুম্বাদা। এরপর যোগ করলেন, “ওই ফেক প্রোফাইল থেকে কী করে জানেন তো? ধরুন, আমি কোনও পোস্ট করলাম অথবা কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বর সঙ্গে ছবি দিলাম...এরপর সেই ছবিটাকেই ধরে ওর পাশে এদিক ওদিক মিশুককে বসিয়ে একটা ছবি তৈরি করে পোস্ট করে দিল!”
আরও বললেন, "দেখুন, বিগত ৪০ বছর ধরে কাজ করছি। আমাদের রাজ্যের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাকে যথেষ্ট সম্মান করেন। কেউ ভালবাসেন কেউ বা স্নেহ। বিশ্বাস করুন, আমার সঙ্গে তাঁদের তরফে আর কোনও রাজনৈতিক আলোচনা করা হয় না। তাঁরা সেই সম্মানটা করেন, ভালবাসাটুকু দেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেই। আমি আগেও বহুবার বলেছি, আজকে আরও একবার বলছি অভিনয়টাকেই যদি আমি বাকি জীবন আঁকড়ে ধরে রাখতে পারি, সেটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া হবে।
সবশেষে প্রসেনজিতের স্পষ্ট বার্তা—যদি কখনও কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার থাকে তাঁর, তা তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে জানাবেন।
এক ভাইরাল পোস্ট, আর তাতেই এমন তোলপাড়! তবে এই ঘটনাই আবার মনে করিয়ে দিল—ডিজিটাল দুনিয়ায় যা দেখছি, তার সবটাই কি সত্যি? না কি সত্যি আর ভুয়োর সীমারেখা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে?
&t=643s
