শুধুই ফিল্ম ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি নন, টলিপাড়ার প্রথম সারির প্রযোজকদের মধ্যে অন্যতম ফিরদৌসুল হাসান। বহু বছর ধরেই তাঁর প্রযোজনায় বাংলা ইন্ডাস্ট্রি তথা দর্শক পেয়েছে রুচিসম্মত সব ছবি, যা দর্শককে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি ভাবিয়েছে। ছবি শেষ হওয়ার পরেও ছড়িয়ে দিতে পেরেছে চিন্তার অনুরণন। গত বছরের পুজোতেই মুক্তি পেয়েছিল ফিরদৌসুল হাসান প্রযোজিত ছবি 'যত কাণ্ড কাকলকাতাতেই'। তারপর এই বছর তাঁর প্রযোজনায় মুক্তির অপেক্ষায় তিন তিনটে বাংলা ছবি ‘কর্পূর’, ‘শেকড়’ এবং ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ -যেসব ছবির পরিচালক যথাক্রমে অরিন্দম শীল, ব্রতী বসু এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায়। আর এহেন ব্যস্ততার ফাঁকেও মুম্বই গিয়ে অনুপম খেরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক সেরে ফেলেছেন ফিরদৌসুল। আর সেসবের ছবি সদ্য তিনি পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমেও।
কীসের জন্য এই বৈঠক? শুধুই আড্ডা না কি নেপথ্যে রয়েছে ছবি বানানোর চিন্তা? জানতে যোগাযোগ করেছিল আজকাল ডট ইন। ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে এই প্রতিবেদককে ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনের কর্ণধার বললেন, "অনুপম খেরের সঙ্গে আমার যোগাযোগ অনেকদিন ধরেই রয়েছে। ম্যাহেমধ্যেই দেখা-আড্ডা হয়। সম্প্রতি মুম্বই গিয়েছিলাম। সেখানেই একসঙ্গে বসেছিলাম আমরা। দেখুন, পরিষ্কার করে বলেই দিচ্ছি - বাংলা ছবি তৈরি করব অনুপমজি-কে নিয়ে! সেই নিয়েই প্রাথমিক স্তরে আলোচনা হয়েছে আমাদের। উনি খুবই আগ্রহী। এর আগেও তো উনি বাংলা ছবিতে এমন অভিনয় করেছেন তেমন প্রযোজনাও করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি ‘বাড়িওয়ালি’।

খানিক থামলেন তিনি। ওঁর কাছে প্রশ্ন ছিল, সেই ছবিতে কি অনুপম খের অভিনয় করবেন বাংলার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে? বরাবরই স্বল্পবাক ফিরদৌসুল হাসান। এক্ষেত্রেও অন্যথা হল না। প্রশ্ন শুনে ছোট্ট করে বললেন, “দেখুন, আবার বলছি গোটা বিষয়টাই একেবারে প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তবে হ্যাঁ, ওঁর বাংলা ছবিতে অভিনয় করা নিয়ে কোনও ছুৎমার্গ নেই। যদি চিত্রনাট্য ভাল হয়, পছন্দের চরিত্র পান তাহলে অভিনয় করতেই পারেন অনুপম খের। আবার আমার সংস্থার সঙ্গে হাত ধরে উনিও ছবি প্রযোজনা করতে পারেন। অর্থাৎ সহ-প্রযোজনার কথাও হয়েছে, তাই সেই সম্ভাবনাও রয়েছে। আসলে, এইটা কোলাবোরেশনের যুগ। যদি বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিকে বড় করতে হয়, তাহলে এই রাস্তাতেই হাঁটতে হবে। এ ছাড়া উপায় নেই। জাতীয় স্তরে বাংলা ছবিকে পৌঁছে দিতে হবে। আর দেখুন, আমাদের কিন্তু সেই সামর্থ্য আছে। বাংলায় প্রচুর ভাল ভাল ছবি তৈরি হচ্ছে। ভাল কন্টেন্টের অভাব নেই। তাই এই দিকটা ভাবতেই হবে যদি দেশের ছবির ইন্ডাস্ট্রির ভাল করতে হয়।বাংলা সাহিত্যে কত মণিমাণিক্য ছড়ানো। আমাদের এখানের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কী কম প্রতিভাবান? সমস্যাটা হচ্ছে পৌঁছে দিতে পারছি না আমরা দেশের মানুষের কাছে। তাই অনুপম খেরের মতো একজন অভিনেতাকে যদি বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে পাওয়া যায়,তাহলে সেটা আখেরে আমাদের বাংলা ছবির জগতের লাভ হবে। জোর গলায় বলছি!”
প্রশ্ন ছিল, সেই বাংলা ছবি তৈরি হলে তাতে যদি অনুপম খের অভিনয় করেন তাহলে কি তাঁর পাশে আবির চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যেতে পারে? প্রশ্ন শেষ হতেই হেসে ফেললেন 'যত কাণ্ড কলকাতাতেই' ছবির প্রযোজক। বললেন, “আমি জানি কেন আপনি এই প্রশ্নটি করলেন। দেখুন, ওই ছবিমুক্তির সময় যে সমস্যাটি হয়েছিল আবিরের সঙ্গে, তা নিয়ে তখন যেমন প্রকাশ্যে কথা বলেছি আবার তা কিন্তু মিটিয়েও ফেলেছি। আবির আমার প্রযোজনায় চারটি ছবিতে কাজ করেছে। ও আমার যথেষ্ট কাছের। অভিনেতা হিসেবেও খুব পছন্দের। তাই কেন নয়? যদি সেই ছবির চিত্রনাট্য আবিরকে ডিমান্ড করে আমি নিজে ওকে প্রস্তাব দেব! হতেই পারে আবির চট্টোপাধ্যায় ও অনুপম খের এক বাংলা ছবিতে কাজ করলেন! ভাল স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়?”
সব মিলিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। কিন্তু মুম্বইয়ের সেই বৈঠক যে নিছক আড্ডা ছিল না, তা কার্যত স্পষ্ট। অনুপম খেরকে ঘিরে বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ সমীকরণ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
