দেখতে দেখতে 'পরিণীতা'র ৬০০ পর্ব পার। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর থেকে পথ চলা শুরু হয়েছিল এই ধারাবাহিকের। মফঃস্বলের এক মেয়ের কলকাতায় পড়তে আসার গল্প দিয়ে শুরু হয়েছিল 'পরিণীতা'। এরপর ধারাবাহিকে নানা চমক, মোড় এসেছে। আর তার সঙ্গে দেখতে দেখতে ৬০০ পর্বও পার করে ফেলল ঈশানী চট্টোপাধ্যায়, উদয় প্রতাপ সিং অভিনীত এই ধারাবাহিক। 

এদিন 'পরিণীতা'র ৬০০ পর্বের উদ্‌যাপনে হাজির ছিল ধারাবাহিকের গোটা টিম। হইহই করে কেক কেটে উদ্‌যাপন করা হয় 'পরিণীতা'র এই মাইলফলক। কেক কেটে পর্দার রায়ান নিজের হাতে পারুলকে খাইয়ে দেয়। তাতেও গল্পের মতো ব্যাঘাত ঘটাতে চলে আসে শিরিন। হাসি, মজায় জমে উঠেছিল এদিন তাঁদের সেলিব্রেশন। 
ধারাবাহিক ৬০০ পর্ব পার করতেই পারুলের জন্য বিশেষ উপহার নিয়ে আসেন রায়ান। কী? আংটি। নিজের হাতে সেটা পরিয়েও দেয়। আর ৬০০ পর্বের সেলিব্রেশন হবে খাওয়া দাওয়া হবে না, তাই কখনও হয়? কী কী ছিল এদিনের মেনুতে? ভাত, পোলাও, শুক্ত, ফিশ ফ্রাই, মাটন। এছাড়া যাঁরা ভেজিটেরিয়ান তাঁদের জন্য ছিল ছানার কোফতা। 

ধারাবাহিক এমন একটা মাইলফলক ছুঁতেই উদয় প্রতাপ বলেন, "যখন শুরু হয়েছিল তখন এগুলো কিছু এক্সপেক্ট করিনি যে ৬০০ টা এপিসোড আমরা এভাবে দাঁড়িয়ে থাকব। অভিনেতা হিসেবে আমার যে সফর শুরু হয়েছিল সেখান থেকে অনেক ওঠাপড়া দেখেছি। সেখান থেকে এই শোয়ের অংশ হয়ে, এমন একটা দাঁড়িয়ে অবশ্যই ভীষণ ভাল লাগছে।" অন্যদিকে ঈশানির কথায়, "যখনই শুট করি প্রতিদিন ফ্রেশ মনে হয়। কখনও মনে হয় না যে অনেকদিন হয়ে গেল। পরিণীতার গল্প থেকে সব কিছুর মধ্যে এত চমক, অ্যাক্টিভনেস থাকে যে কখনও মনে হয় না যে অনেকদিন হয়ে গিয়েছে। সবসময় মনে হয় এই তো শুরু হল। কিন্তু যখন পিছু ফিরে দেখি, তখন মনে হয় অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি।" 

ধারাবাহিক শুরুর সময় দু'জনের রসায়ন কেমন ছিল? এই বিষয়ে উদয় বলেন, "ও তো কথাই বলেনি। আর আমি শুরুতে আগেই খারাপ ভেবেনি। ভাবিনি যে ৬০০ এপিসোডে দাঁড়িয়ে থাকব। ভেবেছিলাম খুব বেশি হলে ১০০ এপিসোড।" 

তবে ৬০০ পর্বের উদ্‌যাপনের বিষয়ে ঈশানি জানান, ৬০০ না, ৫০০ পর্বেই এই উদযাপন হওয়ার কথা ছিল। অভিনেত্রী জানালেন, "৫০০ এপিসোডেই উদ্‌যাপন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন এমন কিছু ঘটনা ঘটে যে শেষ পর্যন্ত উদ্‌যাপন হয়ে ওঠেনি। অবশেষে ৬০০ এপিসোডে সেটা হচ্ছে। এটা একটা মাইলস্টোন নিশ্চয়, কিন্তু এখানে থেমে থাকলে চলবে না। আরও এগোতে হবে।" 

প্রসঙ্গত, 'পরিণীতা' জি বাংলার অন্যতম সুপারহিট মেগা। প্রায় দেড় বছর পরও এটি ক্রমাগত টিআরপি তালিকায় হয় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে থাকে।