ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার স্মৃতি মন্দানার সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরই নতুন বিতর্কে জড়ালেন সঙ্গীত পরিচালক পলাশ মুচ্ছল। মহারাষ্ট্রের সাংলিতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াতেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পলাশ। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি অভিযোগগুলিকে ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে দাবি করেন।

নিজের বক্তব্যে পলাশ লেখেন, ‘সাংলির বাসিন্দা বিদ্যান মানে যে অভিযোগগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলেছেন, সেগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।’ পাশাপাশি তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁর সুনাম নষ্ট করার জন্য এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পলাশ আরও জানান, এই অভিযোগ তিনি কোনওভাবেই বিনা প্রতিবাদে মেনে নেবেন না। তাঁর কথায়, ‘আমার আইনজীবী শ্রেয়াংশ মিঠারে বিষয়টি নিয়ে সব আইনি দিক খতিয়ে দেখছেন। এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি পথেই মোকাবিলা করা হবে।’

জানা গিয়েছে, সাংলির পুলিশ সুপারের কাছে পলাশের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী বিদ্যান মানের দাবি, ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রথমবার পলাশের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয় স্মৃতি মন্দানার বাবার মাধ্যমে। সেই বৈঠকে পলাশ নাকি তাঁকে তাঁর আসন্ন ছবি ‘নজরিয়া’-তে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন।


অভিযোগ অনুযায়ী, পলাশ আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেলে ২৫ লক্ষ বিনিয়োগের বিপরীতে ১২ লক্ষ লাভ হবে। শুধু তাই নয়, ছবিতে একটি চরিত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও নাকি দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয় যে, পরবর্তীতে দু’বার তাঁদের দেখা হয় এবং ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মধ্যে বিদ্যান মানে মোট ৪০ লক্ষ ওই ছবিতে বিনিয়োগ করেন। তবে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও ছবির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি এবং বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া যায়নি। টাকা ফেরত চাইলে সন্তোষজনক কোনও জবাব না মেলায় শেষ পর্যন্ত অভিযোগকারী পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁর আরও দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ার পর পলাশ নাকি তাঁর ফোন নম্বরও ব্লক করে দেন।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এখন আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছে দুই পক্ষই। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রি।

শোনা যাচ্ছে, শ্রেয়সের সঙ্গে পলাশের নতুন এই প্রোজেক্টটি একটি বিশেষ সামাজিক প্রেক্ষাপটে তৈরি হতে চলেছে। শ্রেয়স নিজেও এই কাজ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। পলাশ জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে কাজই তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়। স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর পলাশ যখন তাঁর নতুন ছবির কাজ শুরু করতে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই আইনি জটিলতা তাঁর পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনে যেন বড় ধাক্কা।