রণবীর সিং-এর দাপট তো ছিলই, কিন্তু আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’  ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যে অভিনেতা নিঃশব্দে লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছেন, তিনি হলেন রাকেশ বেদি। করাচির কুচক্রী রাজনীতিবিদ ‘জামিল জামালি’র চরিত্রে তাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ দুই দেশের দর্শক। এর পাশাপাশি ছবির একেবারে শেষে জানা যায় তাঁর আরও একটি পরিচয়। তবে এবার বাস্তবের মলাটে ধরা দিল সিনেমার গল্প! 
পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ নাবিল গাবোল দাবি করেছেন, রাকেশ বেদির ‘জামিল জামালি’র চরিত্রটি নাকি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেই তৈরি। শুধু তাই নয়, দাউদ ইব্রাহিম ওরফে ‘বড় সাহেব’-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং করাচিতে ডনের উপস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক বয়ান দিলেন তিনি।

রিল এবং রিয়েল যখন মিলেমিশে একাকার! রণবীর সিং অভিনীত ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুরন্ধর ২’-তে রাকেশ বেদির করা ‘জামিল জামালি’ চরিত্রটি নিয়ে এখন উত্তাল নেটপাড়া। করাচির এক ধূর্ত রাজনৈতিক নেতার সেই চরিত্রে নিজের ছায়া খুঁজে পেয়েছেন পাকিস্তানের বিতর্কিত রাজনীতিবিদ নাবিল গাবোল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিনেমা ও বাস্তবের ‘বড় সাহেব’ (দাউদ ইব্রাহিম) প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তিনি।


‘ধুরন্ধর ২’ ছবিতে দেখানো হয়েছে, ভারতের এক গোপন চর জামিল জামালি (রাকেশ বেদি) করাচির ডন দাউদ ইব্রাহিমকে তিল তিল করে বিষপ্রয়োগ করেন, যার ফলে ডন এখন শয্যাশায়ী। এ প্রসঙ্গে নাবিল গাবোলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ছবিতে দেখানো হয়েছে জামিলের ইনজেকশন দেওয়ার পর উনি (দাউদ) মৃত্যুশয্যায়। কিন্তু বাস্তবে উনি সেখানে আছেন কি না বা বেঁচে আছেন কি না, সে সম্পর্কে আমার কোনও ধারণাই নেই।”

মুম্বইয়ের সেই ‘পড়শি’ কি করাচিতেই থাকেন? নাবিল সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েও বোমা কিন্তু ফাটিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি কোনওদিন ওঁর সঙ্গে দেখা করিনি। তবে সংবাদমাধ্যম এবং ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে দেখানো হয়েছে করাচির ক্লিফটন এলাকায় উনি থাকেন। কাকতালীয়ভাবে ওই এলাকাটি আমার বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটারের দূরত্বে। কিন্তু আমি কোনওদিন তাঁকে দেখিনি বা তাঁর সম্পর্কে শুনিনি।”


২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম পর্বটি ১০০০ কোটির ক্লাবে ঢুকেছিল। কিন্তু ‘ধুরন্ধর ২’ যেন সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে ১৩৯০ কোটি টাকার ব্যবসা এবং ভারতে ৮৭০ কোটির মোট কালেকশন নিয়ে এই মুহূর্তে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করেছেন রণবীর সিং ও সঞ্জয় দত্তরা। করাচির অপরাধ জগত এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আড়ালে এক ভারতীয় গোয়েন্দার লড়াই দর্শককে কার্যত সিটের কিনারায় বসিয়ে রেখেছে।