হলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সফল সায়েন্স ফিকশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘অবতার’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক যুগান্তকারী আপডেট দিলেন মহাকাব্যিক সিনেমার জনক জেমস ক্যামেরন। ফ্র্যাঞ্চাইজির আসন্ন ছবি ‘অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর মুক্তির প্রস্তুতি চলার মাঝেই পরিচালক নিশ্চিত করেছেন যে, ‘অবতার ৪’ এবং ‘অবতার ৫’ ছবি দুটির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। তবে এই মেগা প্রজেক্ট দুটির ক্ষেত্রে ক্যামেরন এখন এক নতুন চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছেন— তা হলো সিনেমার তৈরির খরচ এবং উৎপাদন সময় প্রায় অর্ধেক করে ফেলা! সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন সিনেমার দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ এবং এর পেছনে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে খোলসা করেছেন।
জেমস ক্যামেরন পপ-তারকা বিলি আইলিশের ত্রিমাত্রিক কনসার্ট ফিল্ম ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য টুর (লাইভ ইন থ্রিডি)’-এর কাজ শেষ করার পর এখন নিজের পুরো মনোযোগ লেখার কাজে দিচ্ছেন। ‘অবতার ৪’ এবং ‘অবতার ৫’ নিয়ে ওঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ক্যামেরন স্বীকার করেন যে, ‘প্যান্ডোরা’র দুনিয়াকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার এই বিশাল ক্যানভাস এবং গ্রাফিক্সের কাজ অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
ক্যামেরন বলেন, “আমরা এই ছবিগুলোকে আরও দক্ষতার সঙ্গে তৈরি করার জন্য কিছু নতুন প্রযুক্তির সন্ধান করছি। কারণ এই সিনেমাগুলো তৈরি করা ‘ভীষণ রকমের ব্যয়বহুল’ এবং এতে প্রচুর সময় লাগে। আমার লক্ষ্য হল— ওয়ান-বাই-টু (১/২) অর্থাৎ অর্ধেক সময়ে এবং দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) খরচে এই পরের পার্টগুলো তৈরি করা। এই সমীকরণটা কীভাবে মেলানো যায়, তা বের করতে আমাদের অন্তত আগামী এক বছর সময় লাগবে। আর এই অন্তর্বর্তী সময়ে আমি চিত্রনাট্য লিখব এবং পর্দার আড়ালে আরও বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ এগিয়ে রাখব।”
এর আগেই অবশ্য জানা গিয়েছিল, জেমস ক্যামেরন ‘অবতার ৪’-এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিং ইতিমধ্যেই সেরে রেখেছেন, যাতে অভিনেতাদের বয়সের তারতম্য স্ক্রিনে ধরা না পড়ে। তবে ক্যামেরন এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই পরিকল্পিত সিক্যুয়েলগুলোর ভবিষ্যৎ বক্স অফিসের বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। যদি কোনও কারণে টিম এই প্রজেক্টগুলো নিয়ে আর এগোতে না চায়, তবে তা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। যদিও ক্যামেরনের আশা— এই মহাকাব্যিক যাত্রা বর্তমান রোডম্যাপের চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
সিনেমা তৈরির পাশাপাশি ‘অবতার’-এর পুরো কাল্পনিক জগতকে উপন্যাসের পাতায় বন্দি করার প্রবল ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন জেমস ক্যামেরন। বর্তমান বইয়ের বাজারে এর ব্যবসায়িক মডেল কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় থাকলেও পরিচালক জানান— “আজকাল হয়তো এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট বিজনেস মডেল নেই, তবুও আমি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ওপর ভিত্তি করে উপন্যাস লিখতে চাই। কারণ প্যান্ডোরার আসল ক্যাননিকাল রেকর্ড বা আসল ইতিহাসটা ঠিক কী ছিল, তা লিখিত আকারে থাকাটা ভাল।”
ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (ভিএফএক্স) ও মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির দুনিয়ায় জেমস ক্যামেরনের এই নতুন ‘কস্ট-কাটিং’ এবং ‘টাইম-সেভিং’ স্ট্র্যাটেজি হলিউডের মেকিং কালচারকে আগামী দিনে কতটা বদলে দেয়, এখন সেটাই দেখার।















