সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত এবং জয়া আহসান অভিনীত আসন্ন ছবি ‘ওসিডি’। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি জয়া আহসান নিজেই তাঁর সমাজমাধ্যমে এই ছবির পোস্টার প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছে ছিমছাম লুকে। নেই কোনও জৌলুস, মেকআপের ঘনঘটা।জাহরা বিজনেস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড নিবেদিত এবং ইন্ডিজেনাস ফিল্মস প্রযোজিত এই ছবি শিশু নির্যাতনের মতো এক গভীরভাবে সংবেদনশীল এবং দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে আনতে চলেছে। ছবির মুখ্য চরিত্রে জয়া আহসান।‌ অভিনেত্রীর ছোটবেলার চরিত্রে দেখা যাবে আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়কে।


সেই ‘ওসিডি’-র আজ মুক্তি পেয়েছে। ২০২৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি জয়া আহসান অভিনীত এই ছবি আসতে চলেছে বড় পর্দায়। জাহরা বিজনেস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড নিবেদিত এবং ইন্ডিজেনাস ফিল্মস প্রযোজিত ‘ওসিডি’- এমন এক সংবেদনশীল বিষয়কে সামনে আনে, যা দীর্ঘদিন ধরে সমাজে উপেক্ষিত -শিশু নির্যাতন। নীরবতা, ভয় আর সামাজিক লজ্জার আড়ালে চাপা পড়ে থাকা এই বাস্তবতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে ছবিটি।

ছবি সম্পর্কে বলতে গিয়ে পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল জানান, ‘ওসিডি’ তাঁর কাছে একটি প্রতিবাদমূলক কাজ। তাঁর কথায়, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় শিশু নির্যাতনের অভিযুক্তরা অচিহ্নিত ও অদণ্ডিত থেকে যায় কারণ ভুক্তভোগী শিশুরা ভয়, অবিশ্বাস এবং নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয়ে মুখ খুলতে পারে না। তিনি এমন এক সমাজে বড় হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, যা বাইরে থেকে আধুনিক হলেও ভিতরে গভীর ভণ্ডামিতে ভরা। যেখানে কোনও শিশু নিজের যন্ত্রণার কথা বলতে চাইলে পরিবারও অনেক সময় সামাজিক প্রশ্ন, যৌন কুসংস্কার ও তথাকথিত লজ্জার ভয়ে সত্যকে আড়াল করতে চায়।

পরিচালকের মতে, আজও আমাদের সমাজে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই কলুষিত হিসেবে দেখা হয়। শিশুর যন্ত্রণাকে ‘পবিত্রতা হারানো’-র সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার মানসিকতা এখনও বহাল। লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হলেও, শিশুর অধিকার, বিশেষ করে যৌন নির্যাতনের প্রশ্নে সমাজ এখনও যথেষ্ট সংবেদনশীল বা প্রগতিশীল হয়ে উঠতে পারেনি বলেই মনে করেন তিনি।

শিশু নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব প্রসঙ্গে সৌকর্য ঘোষাল বলেন, একটি শিশু যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যায়, তার বোঝা আজীবন বইতে হয়। এই ট্রমা অনেক ক্ষেত্রে আত্মবিধ্বংসী পথে ঠেলে দেয়। আবার কখনও দমিয়ে রাখা যন্ত্রণা প্রতিশোধের রূপ নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

">

‘ওসিডি’ ছবির মাধ্যমে সৌকর্য ঘোষাল গল্প বলতে চেয়েছেন এক নির্যাতিত শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, যে শিশু নির্ভীক, সমাজের বিচারের তোয়াক্কা করে না এবং নিজের সত্য প্রমাণের জন্য কারও অনুমতির অপেক্ষায় থাকে না। এই ছবির কেন্দ্রে রয়েছে সেই শিশুর সেই সত্য যা নীরব কিন্তু যাকে অস্বীকার করা অসম্ভব।