হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মালয়ালম চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী সেলিম কুমারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে শেষরক্ষা আর হয়নি। না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন এই অভিনেতা। শনিবার সকালে ৫৭ বছর বয়সী এই অভিনেতার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত কোচির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, সেখানেই শেষ‌ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সেলিম।

অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে আইসিইউ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, অভিনেতার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক এবং তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সেলিম কুমার গত বেশ কয়েক বছর ধরেই লিভারের মারাত্মক জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে তাঁর লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে, যা নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে জনসমক্ষে খোলামেলা আলোচনাও করেছেন। পরবর্তীতে তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্টও করা হয়। এই দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বিনোদন জগৎ থেকে অনেকটাই দূরত্ব বজায় রাখছিলেন। তবে চিত্রনাট্য পছন্দ হলে বেছে বেছে কিছু সিনেমা তিনি করছিলেন।

মালয়ালম সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে, সেলিম কুমার একজন মিমিক্রি শিল্পী হিসেবে নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। ১৯৯৭ সালে 'ইষ্টমানু নূরু ভাট্টম' সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর তাঁর অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল 'অচানুরাঙ্গথা ভিডু'। এই ছবিতে এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তিনি জীবনের প্রথম কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে 'আদামিন্তে মকান আবু' চলচ্চিত্রে তাঁর এক মর্মস্পর্শী ও অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান—শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। জাতীয় স্তরের এই গৌরব ছাড়াও, দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি একাধিকবার কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগত। সমাজমাধ্যমেও শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর অনুরাগীরা।