ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা বিরাট কোহলি এবং স্ত্রী তথা অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা আবারও বৃন্দাবনে গিয়ে আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের দর্শন করলেন। তাঁদের এই সফরের ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে সেই আনন্দের মাঝেই অন্য একটি বিষয় নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তারকা দম্পতির ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)র আন্দোলন নিয়ে নীরব থাকায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সিজেপি-সম্পর্কিত আন্দোলন এবং প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সেই আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বহু অভিনেতা, শিল্পী ও সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মা এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি।
এই নীরবতাই সমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের দাবি, বিরাট ও অনুষ্কার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খোলা উচিত। অনেকেই লিখেছেন, যখন অন্যায়ের অভিযোগ উঠছে, তখন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় সফরে ব্যস্ত থাকলে চলবে না। কেউ আবার সরাসরি লিখেছেন, "দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখান।" আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোটি কোটি মানুষের অনুসরণ করা তারকারা যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুপ থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কী বার্তা পাবে?
তবে সবাই যে সমালোচনা করেছেন, এমন নয়। বিরাট-অনুষ্কার বহু অনুরাগী তাঁদের সমর্থনও করেছেন। তাঁদের মতে, কোনও সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে মত প্রকাশ করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কোনও তারকার উপর সব ইস্যুতে মন্তব্য করার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই শুধুমাত্র নীরব থাকার জন্য তাঁদের আক্রমণ করা ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মা দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমানন্দ মহারাজের ভক্ত। তাঁরা অতীতেও একাধিকবার বৃন্দাবনে গিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নিয়েছেন। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, বড় টুর্নামেন্ট বা নতুন অধ্যায় শুরু করার আগে তাঁদের সেখানে যেতে দেখা গিয়েছে। এবারও তাঁরা অত্যন্ত সাধারণ পোশাকে, খালি পায়ে আশ্রমে পৌঁছে মহারাজের আশীর্বাদ নেন। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
তবে আধ্যাত্মিক সফরের চেয়ে এখন বেশি চর্চা হচ্ছে তাঁদের নীরবতা নিয়ে। যদিও বিরাট কোহলি বা অনুষ্কা শর্মা এখনও পর্যন্ত এই সমালোচনার কোনও জবাব দেননি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
















