বছর দেশ কাল ঋতু প্রজন্ম সবই বদলায়, কিন্তু মানবমনের অনুভূতি অবিনশ্বর, যুগে যুগে সেই আদিম অনুভব আখর কাটে সংগোপনে৷ আকাশে মেঘ জমলে বিষাদ ঘন হয় মনকোণে ঠিক যেন মেঘদূতের সেই চিরবিরহিণী যক্ষপ্রিয়া, কিন্তু সেই বিষাদ ছুঁয়ে অনুভূতির চড়াই উতরাই পেরিয়ে মন খুঁজে নেয় পরম ধন৷

বর্ষার নবজলধারায় চারপাশ যখন সবুজে সেজে উঠেছে সেই সময় বিগত দিনের ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলে আবার নতুন করে জীবনের উদযাপনে সামিল 'শ্রুতিবৃত্ত'। শিল্পী শুভদীপ চক্রবর্তীর ঐকান্তিক উদ্যোগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল 'পরাণসখা'।

শব্দে সুরে অনুভবের এক মায়াময় সন্ধ্যা৷ যেখানে সরোদের সুরে শব্দেরা প্রতীয়মান, রবীন্দ্রনাথের গানের ব্যাঞ্জনায় সেই পরমকে ছুঁতে চাওয়ার অমোঘ টান৷ সেই টানেই জীবনপথের বাধা-বিপদ বিরহ-বিচ্ছেদ সবকিছুর মধ্যে এগিয়ে চলা আর এই চলার পথের শেষ প্রান্তে অপেক্ষমান 'পরাণসখা'র মোলাকাত।

'পরাণসখা' শীর্ষক অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা এবং আয়োজনে শ্রুতিবৃত্তর কর্ণধার শুভদীপ চক্রবর্তী। অর্ণব ভট্টাচার্যের সরোদের সুরে শুভদীপের আবৃত্তির আবেশ ছড়িয়ে পড়েছিল শ্রোতাদের কান থেকে মনে। সন্দীপ গুহর পাঠ এবং রবীন্দ্রনাথের গানে শিল্পী শ্রাবণী সেনের মুন্সিয়ানায় এই অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে সৃষ্টির সঙ্গে সত্তার মিলনক্ষণ৷

কেবল গান কবিতা নয়, সমকালীন শিল্পীদের সম্মান ও স্বীকৃতি স্বরূপ শ্রতিরত্ন সম্মাননা প্রদান করা হয় সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ সেন বরাট, নৃত্যশিল্পী মালবিকা সেন, অভিনেতা অরিন্দম গাঙ্গুলি, বাচিকশিল্পী সুজয়নীল বন্দ্যোপাধ্যায়, আবৃত্তিশিল্পী শাশ্বতী সরকার, এবং বিখ্যাত বাঙালি রেস্তরাঁ ভজহরি মান্নার কর্ণধার সিদ্ধার্থ শঙ্কর বসুকে৷ শ্রতি যুবরত্ন সম্মাননা পেয়েছেন নৃত্যশিল্পী দ্রাবিণ চট্টোপাধ্যায়। শুভদীপ চক্রবর্তীর শ্রতিবৃত্তর হাত ধরে শিল্প সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা সমকালীন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বহমান৷ মূল অনুষ্ঠান 'পরাণসখা' শুরু হওয়ার আগে 'শ্রুতিবৃত্ত'-এর বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীদের নাচে গানে শিল্পের উদযাপনও সমান উপভোগ্য৷

রথযাত্রার বিশেষ দিনে প্রভু জগন্নাথকে নিয়ে একটি গানল প্রকাশিত হয়৷ 'জয় জগন্নাথ প্রাণনাথ' গানটির গীতিকার শুভদীপ চক্রবর্তী সুরকার এবং গায়ক অভীক মল্লিক৷
উপস্থিত সকল শিল্পীই শুভদীপ চক্রবর্তীর শিল্পগুণের প্রশংসা করেন৷ বাংলার শিল্প ও সৃজনশীলতা রাজ্য দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও সমাদৃত৷ অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রীতি মেলবোর্ন এবং জাপানের নিহন বাংলার তরফ থেকে এসেছিল শুভেচ্ছাবার্তা।

শিল্পী শ্রাবণী সেন বলেন, "শ্রুতিবৃত্তর শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানটা করছে। এই উদ্যোগের জন্য শুভদীপ চক্রবর্তীকে সাধুবাদ জানাই। আবৃত্তির সঙ্গে আমার কয়েকটা রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়া, ঋতুবদলের সঙ্গে শব্দে সুরে কথায় গানে জীবনের উদযাপন৷"
সরোদবাদক অর্ণব ভট্টাচার্য বলেন, শুভদীপ আর আমি বহুদিন ধরেই এমন কিছু কাজ করার চেষ্টা করি যা একটু অন্যরকম, কবিতা আর সরোদের মেলবন্ধনে সবসময়ই আউট অফ দ্য বক্স কিছু করার চেষ্টা করি৷ আমরা এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালবাসি৷ সেই জায়গা থেকে ওঁর সঙ্গে অনুষ্ঠান করা৷"
















