বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে৷ কিন্তু টাকা নিয়েও তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ৷ এই ঘটনায় বড় আইনি ধাক্কা দিল মহারাষ্ট্রের উপভোক্তা কমিশন।

 কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আয়োজককে ৩ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে মৌসুমী চ্যাটার্জিকে। শুধু তাই নয়, হয়রানির জন্য আরও ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং মামলার খরচ বাবদ আরও ২৫ হাজার টাকাও দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। অভিযোগকারী, একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চিকিৎসক, গোয়ায় তাঁর মেডিক্যাল কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানান। ই-মেলের মাধ্যমে অভিনেত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সম্মতি দেন। উপস্থিত থাকার জন্য ৩ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক এবং সমন্বয়কারীর জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ারও চুক্তি হয়। অভিযোগকারী আগাম ২ লক্ষ টাকা RTGS-এর মাধ্যমে পাঠান এবং বাকি টাকা অভিনেত্রীর গোয়ায় পৌঁছানোর পর দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি বিমান ভাড়া, হোটেল এবং অন্যান্য থাকার ব্যবস্থার সমস্ত খরচও বহন করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় গোয়ায় পৌঁছালেও নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যাননি। পরের দিনই তিনি ফিরে যান। এরপর একাধিকবার ই-মেল করে আগাম দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া হলেও তা ফেরত দেননি অভিনেত্রী এমনটাই অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন আয়োজক।

মামলার শুনানিতে মহারাষ্ট্রের উপভোক্তা কমিশন জানায়, সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক গ্রহণ করা, ভ্রমণ ও থাকার সমস্ত সুবিধা ভোগ করার পরও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা পরিষেবায় গাফিলতির শামিল। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, এটি ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অধীনে ‘ডিফিসিয়েন্সি ইন সার্ভিস’-এর স্পষ্ট উদাহরণ। সেই কারণেই অভিনেত্রীকে ৩ লক্ষ টাকা ফেরতের পাশাপাশি ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ২৫ হাজার টাকা মামলা পরিচালনার খরচ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, জনপ্রিয় তারকাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে আয়োজকদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। আদালতের এই নির্দেশ ভবিষ্যতে এমন চুক্তি এবং তার দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।