বলিউডে একটা সময় পর্যন্ত বাবা বা পিতৃ স্থানীয় কোনও চরিত্রে তাঁকে হামেশাই দেখা যেত। 'ম্যায়নে পেয়ার কিয়া', 'হাম আপকে হ্যায় কৌন', 'হাম সাথ সাথ হ্যায়', 'বিবাহ' সহ একাধিক হিট ছবিতে তাঁকে গিয়েছে। অনেক সময় তাঁকে বলিউডের 'সংস্কার বাবুজি' বা বাবার খেতাবও দেওয়া হতো। তবে ২০১৮ সালের দিকে ছবিটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। 

বছর ৮ আগে একাধিক মহিলা অলোক নাথের বিরুদ্ধে 'মি টু' অভিযোগ আনেন। তারপর থেকে আর তেমন ভাবে  তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এখন কোথায় আছেন তিনি। কী করছেন? তাঁর ছোটবেলার বন্ধু তথা অভিনেতা রাজেশ পুরী বর্ষীয়ান অভিনেতার বর্তমান আপডেট দিলেন। 

রাজেশ পুরী জানালেন 'মি টু'র অভিযোগগুলো অলোক নাথের উপর প্রবল প্রভাব ফেলেছিল। তাঁকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন তিনি লোক চক্ষুর আড়ালে নিঃশব্দে, নিজের মতো শান্ত জীবনযাপন করেন। বাড়ির বাইরে কখনও কখনই বেরোন। রাজেশ পুরীর কথায়, 'যখন অলোক নাথের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠল তখন সকলেই চমকে উঠেছিলেন, কারণ তিনি ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সংস্কারী অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই অভিযোগের পর তিনি নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেন। ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে গিয়েছেন, বাড়িতেই থাকেন মূলত।' 

তিনি আরও বলেন, 'অলোক ভীষণ ভাল মনের মানুষ। এখন ও সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। একদম মদ খান না। খুবই ভাল মানুষ। তবে ও এমন কিছু সহ্য করতে পারে না যা ওকে দুঃখ দেয়। দ্বিতীয় জিনিস হল মদ। ও আগে খুব মদ খেত, সেটা ওকে খুবই প্রভাবিত করত।' তাঁর দাবি, অলোক কখনই সিনেমার সেটে কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি। তবে মদ খাওয়ার পর তিনি আর হুঁশে থাকতেন না। তখন তিনি উগ্র হয়ে যেতেন, বলেই দাবি করেন রাজেশ। 

বর্তমানে অলোক নাথ সেভাবে কারও সঙ্গে কথা বলেন না, অভিনয়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছেন। এমনকী কোথাও কেউ নিমন্ত্রণ করলে সেখানেও যান না। 
এখন অলোক নাথ সৎসঙ্গে যান। গুরুর বাণী শোনেন, সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করেন।