বিধানসভার প্রথম দিন বিপক্ষ তৃণমূল দলের প্রতিনিধিদের টালিগঞ্জের বিধায়ক বলেছেন "আমরা কিন্তু শত্রু নই।" কেন এমন বললেন? আজকাল ডট ইন-কে পাপিয়া অধিকারী বলেন, "বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে তৃণমূলের অনেকের সঙ্গে দেখা হল৷ আমি তৃণমূলের বড় নেতাদের বললাম, আমরা কিন্তু শত্রু নই৷ আমি বিধায়ক৷ তৃণমূল করছেন যাঁরা, কংগ্রেস করছেন কিংবা বাম রাজনীতি করছেন, আমি তো সকলের জন্য কাজ করব৷ আমি তো সকলের বিধায়ক৷ মুখ্যমন্ত্রী তো আমাদের বিজেপি সমর্থকদের মুখ্যমন্ত্রী নন, সকলের মুখ্যমন্ত্রী।"
পাপিয়া অধিকারী বলেন," প্রাক্তন রাজ্য সরকার রাজ্য সরকারের মতো কাজ করেননি৷ তৃণমূল করলে আছ, নয়ত সরে যাও, আমি বিধায়ক হওয়ার লড়াইতে যখন নামলাম মানুষকে ভাবালাম আমি তোমাদেরই৷ আমি কৌশলী রাজনীতিবিদ নই৷ আমি বলেছিলাম, আমি দুই কন্যাসন্তানের মা, আমরা অপরীক্ষিত, বিজেপি কখনও বাংলায় ক্ষমতায় আসেনি৷ আমাদের সরকার গঠন করতে দিন৷ আমি সহজভাবে বলেছি৷" মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সব স্তরের মানুষ তাই পাপিয়া অধিকারীকে গ্রহণ করেছেন বলেই দাবি অভিনেত্রী বিধায়কের৷
পাপিয়া অধিকারীর মুখে সবসময় একগাল হাসি৷ রাজনীতির ময়দানে এই হাসির প্রয়োজন ছিল না এমন কথা শুনেও পাপিয়া বলেছিলেন, "আমার কোনও রাগ নেই৷ খুব কাছের লোকের প্রতি অভিমান হয় তাঁদের কোনও কাজ ভাল না লাগলে৷ আমার অহংকার নেই৷ কোনও নেতিবাচক চিন্তা নেই৷ পরশ্রীকাতরতাও নেই৷ "
পাপিয়া বলেন, "আমরা যাঁরা গীতা উপনিষদ চর্চা করি, আমরা মনে করি ইশ্বর সর্বত্র রয়েছেন, সফলতা বা ব্যর্থতা সব সময় ঈশ্বর রয়েছেন৷ এই বার না হলে পরের বার হবে৷"
ভোট প্রসঙ্গে পাপিয়া বলেন,"আমি বলেছিলাম এবারের ভোট খারাপ আর ভাল-এর৷ আমি সেই ভাল-এর দলে। তাই মানুষ আমাকে ভরসা করলেন, আশীর্বাদ করলেন৷"
পাপিয়া অধিকারীর মতে, তিনি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছেন৷ কারণ তিনি সহজ স্বাভাবিক ভাবে মানুষকে বলেছিলেন তিনি কতটুকু করতে পারবেন৷ "এই জয় আমার একার নয়, আমাদের সকলের জয়৷ সকলে মিলে কাজ করব", সংযোজন পাপিয়ার৷
পাপিয়া অধিকারী বলেন, " ভারতীয় জনতা পার্টি অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ।আমার পার্টির নির্দেশ সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে৷ সমস্যা শুনছি৷" টালিগঞ্জ 'ফোকলা' হয়ে গিয়েছে, অনেক কিছু করার আছে বলেও জানান পাপিয়া৷ পাপিয়া বলেন, "আমার প্রথম সিনেমার নাম সোনার সংসার, আমার স্বপ্ন টালিগঞ্জকে সোনার সংসার বানাব।"















