মানহানি-সহ ক্ষতিপূরণের দাবি এবং অনুষ্ঠানের টাকা ফেরত চেয়ে আগেই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তনয় শাস্ত্রী৷ এবার তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি উপস্থিতিতে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বনগাঁ আদালতে মামলা করা হল।
তনয় শাস্ত্রীর সম্মানহানি করার জন্য ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছিল৷ অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী অনুষ্ঠান না করায় মিমি চক্রবর্তীকে দেওয়া ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছিলেন তনয় শাস্ত্রী৷ এদিন মিমির বিরুদ্ধে বনগাঁ আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে ।
তনয় শাস্ত্রী বলেন, "মিমি চক্রবর্তী অনুষ্ঠানের জন্য ২ লক্ষ্য ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে সঠিক সময়ে আসেননি এবং আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। বনগাঁ আদালতে আজ মামলা করা হয়েছে । আইনের উপরে আমার পূর্ণ আস্থা আছে। কোর্ট সঠিক বিচার করবে।" তনয় আরও বলেন, "২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা মিমি নিয়েছেন৷ মিথ্যে অপবাদ দিয়ে ফাঁসিয়েছেন এবং আমাকে তার জন্য ফেফাজতে থাকতে হয়েছে৷ বনগা কোর্টে এসে তিনি জবাব দেবেন। আইনের উপর আমার ভরসা আছে৷"
কী নিয়ে সমস্যার সূত্রপাত? ২৫ জানুয়ারি বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘে একটি অনুষ্ঠান করার কথা ছিল মিমি চক্রবর্তীর। সেখানে পৌঁছতে তাঁর ঘণ্টাখানেক দেরি হয়। প্রচুর দর্শক তাঁকে দেখতে, তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। অভিযোগ, সেই অনুষ্ঠানের মাঝে মিমিকে মঞ্চ থেকে কার্যত জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়। সমাজমাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন অভিনেত্রী।
তনয় শাস্ত্রীর তরফে জানানো হয়েছে, রাত ১০.৩০টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার কথা ছিল মিমির৷ কিন্তু তিনি মঞ্চে আসেন রাত ১১টা বেজে ৪৬ মিনিটে৷ ১২ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার অনুমতি নেওয়া ছিল। তাই মিমিকে মাঝপথে অনুষ্ঠান থামাতে বলা হয়৷
মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ২ টি মামলা হয়েছে৷ তনয় শাস্ত্রীর মানহানি করার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে৷ মানহানি মামলার জন্য ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে মিমির থেকে৷ আইনজীবি তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জানান, যেহেতু ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা অনুষ্ঠান করার জন্য মিমি নিয়েছিলেন কিন্তু অনুষ্ঠান করেননি তাই টাকাটা তাঁর ফেরত দেওয়া উচিৎ ছিল। তাই অপরাধের মামলা হয়েছে।
মিমি চক্রবর্তী একটা নোটিস দিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি ১১ টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেছিলেন৷ সংবাদমাধ্যমের কাছে আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন যে, মিমি চক্রবর্তী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ১১টা ২০ মিনিটে পৌঁছেছেন৷ কিন্তু দেরি করে আসার জন্য তো তাকে ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি৷ এছাড়াও আইনজীবি বলেছেন, সেদিনের ঘটনার ভিডিয়ো সকলের কাছে আছে৷ মিমির দাবি অনুযায়ী তনয় শাস্ত্রী মিমিকে অপমান এবং হেনস্থা করেছেন কিন্তু ভিডিয়োতে তেমন কিছুই দেখা যায়নি।
আইনজীবি আরও বলেছেন, মিমির অভিযোগ ছিল তনয় শাস্ত্রী-সহ অনুষ্ঠানের বাকি আয়োজকেরা মদ্যপ ছিলেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। তাই মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হলে নিশ্চয় পুলিশ পদক্ষেপ করতেন। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি, সমাজমাধ্যমে ফলোয়ার্স বাড়ানোর জন্য, প্রচার পাওয়ার জন্য মিমি চক্রবর্তী যা করেছেন তা 'নোংরামি'। সাধারণ মানুষকে এইভাবে অপমান এবং হেনস্থা করার জন্য কোর্টে এসে জবাবদিহি করতে হবে এই দাবিও জানান আইনজীবী।
পালটা অভিনেত্রী মিমিও মানহানির মামলা করেন৷ নাম খারাপ করার জন্য, মানসিক চাপ তৈরি এবং হেনস্থা করার জন্য এই ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন অভিনেত্রী৷ তনয় শাস্ত্রীকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেছেন৷
কিন্তু সত্যিই কি ২৫ জানুয়ারির রাতে দেরি করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেছিলেন মিমি চক্রবর্তী? তাঁর করা মানহানি মামলায় জানানো হয়েছে তিনি নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যস্থলে পৌঁছন। কিন্তু সেখানে তাঁর জন্য কোনও মেকআপ রুম ছিল না। এক মদ্যপ ব্যক্তি তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে যেতে বলএন অভিনেত্রীকে৷ নিরাপত্তার কথা ভেবে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে নিজের গাড়িতেই মিমি চক্রবর্তী অপেক্ষা করতে থাকেন। এরপর তিনি ১১.৪৫-এ স্টেজে ওঠেন। দুটো গান গাওয়ার পর তাঁকে নেমে যেতে বলা হয়।
