মাহি বিজ বিচ্ছেদের পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রথম ভিডিও প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা জয় ভানুশালির সঙ্গে ১৪ বছরের দাম্পত্যের ইতি টানার ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভিডিও সামনে আসে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে ৪ জানুয়ারি একটি যৌথ বিবৃতিতে মাহি ও জয় জানান, জীবনের পথে হাঁটতে গিয়ে তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভিডিওয় মাহি স্পষ্ট ভাষায় সেই সব খবর উড়িয়ে দেন, যেখানে দাবি করা হচ্ছিল যে তিনি নাকি ৫ কোটি টাকা খোরপোশ নিচ্ছেন। অভিনেত্রীর কথায়, “এই মুহূর্তে ইনস্টাগ্রামে অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছি। অর্ধেক জেনে কথা বলবেন না। কেউ কেউ লিখছে, ‘মাহি ৫ কোটি টাকা খোরপোশ নিয়েছে।’ শুধু লাইক আর কমেন্টের জন্য পুরনো ভিডিও টেনে আনা হচ্ছে। এটা ভীষণই দুঃখজনক।”

২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাহি ও জয়। তাঁরা তিন সন্তানের বাবা-মা। নিজেদের কন্যাসন্তান তারা এবং দুই পালিত সন্তান রাজবীর ও খুশি।

ডিভোর্সের পর সন্তানদের দত্তক নেওয়া নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদেরও কড়া জবাব দেন মাহি। তিনি জানান, বিচ্ছেদ হলেও তিনি ও জয় চিরকাল বন্ধু হিসাবেই থাকবেন এবং সন্তানদের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। মাহির কথায়, “এমন নয় যে বাচ্চারা হঠাৎ অনাথ হয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে। এমন কিছুই নয়।”

মাহি আরও বলেন, “আমি মনে করি, আমার সন্তানরা একদিন জয় আর আমাকে নিয়ে গর্ব করবে। মা-বাবা একসঙ্গে থাকতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা সম্মানের সঙ্গেই করেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “কেউই ডিভোর্সের মধ্য দিয়ে যেতে চায় না। এখানে কোনও নাটক নেই। কেউ কেউ বলছে, ইন্ডাস্ট্রিতে এটা নাকি একটা মজার বিষয় হয়ে গিয়েছে। না, তা নয়। ডিভোর্স শুধু এই ইন্ডাস্ট্রিতে নয়, সর্বত্রই হচ্ছে। অন্তত আমরা বিষয়টা সুন্দরভাবে সামলেছি।”

জয় ও মাহির প্রথম দেখা হয়েছিল এক বন্ধুর পার্টিতে। পরে আবার দেখা হলে বন্ধুত্ব থেকে গড়ে ওঠে প্রেম। ২০১০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে তাঁরা তাঁদের গৃহকর্মীর দুই সন্তান রাজবীর ও খুশিকে দত্তক নেন। এরপর ২০১৯ সালে তাঁদের কন্যাসন্তান তারা জন্ম নেয়।

গত এক বছরে ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে নাকি দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। এক সময়ের আনন্দময় পোস্টের জায়গা নেয় নীরবতা। ভক্তরা লক্ষ্য করেন, মাহি এবং জয় আর একে অপরের সঙ্গে কোনও ছবি বা ভিডিও শেয়ার করছেন না। এই পরিবর্তন থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুজব শুরু হয়।