আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকায় একদিকে তরুণ আর আরেকদিকে অভিজ্ঞদের মিশেলে বাজিমাত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেল, মমতা ব্যানার্জি একদিকে যেমন দলের তরুণ প্রার্থীদের ওপর ভরসা রেখেছেন, তেমনই হাত ছাড়েননি পোড়খাওয়া রাজনীতিকদেরও।


প্রসঙ্গত, এবার টলিপাড়া ও ক্রীড়াজগতের একাধিক তারকার প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বরং দেখা গিয়েছে, এবার তারকা মহলের যাঁরা টিকিট পেয়েছেন তাঁদের অধিকাংশ এর আগেও প্রার্থী হয়েছেন। মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলে এসেছেন। তবে সমগ্র তালিকায় কিন্তু রয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুখ। আর এহেন আবহেই এই তালিকা প্রকাশের পরেই বড় চমক দিলেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অভিনেতা ভরত কল। ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। আর তা দেখেই চোখ কপালে উঠেছে অনেকের। তা কী সেই পোস্ট? ভরত তাঁর সহকর্মী তথা ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়া পালের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, “আমাদের প্রিয়া পাল জিন্দাবাদ।”

 

 

স্বভাবতই অভিনেতার এই পোস্ট দেখে বিস্ময়ে অনেকের ভুরু কপালে উঠেছে। ফিসফাস শুরু হয়েছে, তাহলে কি মমতা-ঘনিষ্ঠ এই অভিনেত্রীও এবারে টিকিট পেয়েছেন? যদিও প্রার্থী তালিকায় 'পরশুরাম' অভিনেত্রীর নাম শোনা যায়নি। অবশ্য ততক্ষণে নেটপাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দা ভরতের সেই পোস্টের নীচে প্রিয়ার উদ্দেশ্যে অভিনন্দনবার্তা জানানোও শুরু করে দিয়েছেন। আসল ব্যাপারটা  কী, তা জানতেই ভরত কোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আজকাল ডট ইন। 

বিষয়টি শোনামাত্রই সশব্দে হেসে উঠলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। এরপর বললেন, “না, না প্রিয়া টিকিট পাননি। গোটা ব্যাপারটাই মজার ছলেই করেছি। আসলে ও আর আমি পরশুরাম ধারাবাহিকে কাজ করছি। খুবই স্নেহ করি ওকে। তাই মজা করেই করা। আর এই পোস্টের পর আমার কাছেও যেমন বহু ফোন কল আসছে, প্রিয়ার কাছেও আসছে। আমরা তো এইমুহূর্তে এই ধারাবাহিকের-ই সেটে আছি। বিশ্বাস করুন, কম করে আড়াইশোর উপর ফোন কল ঢুকেছে বেচারির ফোনে। ও তো অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তবে রাগ করেনি আমার উপর...” বলতে বলতে হেসে উঠলেন ভরত। 

তবে মজার ছলে হলেও ভরত কল একেবারে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তাঁর কথায়, প্রিয়া পালের রাজনৈতিক সক্রিয়তা রয়েছে। নিয়মিত তৃণমূলের সভায় উপস্থিতিও নজরে পড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সুযোগ মিলতেই পারে—এই ইঙ্গিতও রেখে দিয়েছেন তিনি।


প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকার পরিসংখ্যান বলছে, এ বার ৩১ বছরের কম বয়সি ৪ জন প্রার্থীকে ভোটের লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সি প্রার্থীর সংখ্যা ৩৮। তবে তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভিড় মধ্যবয়সীদের। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৮৮ জন এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯।


এ বারের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেবাংশু ভট্টাচার্য। তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র তথা সোশ্যাল মিডিয়া সেলের এই কাণ্ডারিকে চুঁচুড়া বিধানসভা থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। 

এ ছাড়াও নজর কাড়ছেন পূর্বস্থলী উত্তরের বসুন্ধরা গোস্বামী, নোয়াপাড়ার তৃনাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং মানিকতলার শ্রেয়া পাণ্ডে। এঁরা প্রত্যেকেই ঘাসফুল শিবিরের ছাত্র ও যুব সংগঠনের পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর এই লড়াইয়ে আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতেই জোর দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

 

 

&t=643s