জয় ভানুশালির সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক ইনস্টাগ্রাম স্টোরি শেয়ার করলেন অভিনেত্রী মাহি বিজ। উল্লেখ্য, রবিবার, ৪ জানুয়ারি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তাঁদের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মাহি ও জয়। সেই বিবৃতিতে তাঁরা জানান, আলাদা হলেও সন্তানদের একসঙ্গে বড় করবেন এবং বন্ধুত্ব বজায় রাখবেন।
ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পরেই মাহি একটি ভিডিও স্টোরি পোস্ট করেন, যেখানে তাঁদের মেয়েকে একটি স্লাইডে খেলতে দেখা যায়। ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে, সেটি কোনও প্লে-গ্রুপ বা খেলার জায়গা। বিচ্ছেদের খবরের মাঝেও মেয়ের হাসিখুশি মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে মাহি স্পষ্ট করে দেন, সন্তানরাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
এর পরের স্টোরিতে মাহিকে দেখা যায় স্ট্রবেরি পুডিং উপভোগ করতে। তাঁর মুখে হাসি। আরেকটি স্টোরিতে তিনি এমন একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যা অনেকেই তাঁর প্রাক্তন স্বামী জয়ের প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করছেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘যাঁরা আমার সন্তানদের ভালবাসেন, তাঁদের আমি ভালোবাসি। আমার হৃদয়ে তাঁদের জন্য সবসময়ই বিশেষ জায়গা থাকবে।’ এই কথার মাধ্যমে সন্তানদের প্রতি জয়ের ভালবাসার প্রতি মাহির সম্মানই ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
আরও একটি স্টোরিতে মাহি লেখেন, “মানুষের সুন্দর মন, কোমল হৃদয় আর ভাল এনার্জির কারণ হয়ে ওঠো। কখনও ভাল মানুষ হওয়া বন্ধ কোরো না।’ শেষ স্টোরিতে খানিক হতাশার সুর ধরা পড়ে। সেখানে লেখা ছিল, ‘তুমি যদি ভাবো, মানুষ তোমার জন্য ঠিক ততটাই করবে, যতটা তুমি তাদের জন্য করো, তাহলে শেষমেশ খুব হতাশ হতে হবে।’
এর আগে মাহি ও জয় তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আজ আমরা জীবনের পথে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিন্তু একে অপরের পাশে থাকব। শান্তি, উন্নতি, সদয়তা আর মানবিকতাই আমাদের পথচলার মূল ভিত্তি।’ তাঁরা আরও জানান, তাঁদের তিন সন্তান তারা, খুশি এবং রাজবীরের জন্য তাঁরা সেরা বাবা-মা ও বন্ধু হয়ে থাকবেন।
প্রসঙ্গত, মাহি ও জয়ের বিয়ে হয় ২০১১ সালে। ২০১৭ সালে তাঁরা দুই সন্তান রাজবীর ও খুশিকে দত্তক নেন। ২০১৯ সালে তাঁদের জীবনে আসে কন্যাসন্তান তারা। বিচ্ছেদের পরেও সন্তানদের ঘিরেই যে তাঁদের জীবন আবর্তিত হবে, তা মাহির পোস্টেই স্পষ্ট।
