প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মা মধু চোপড়াকে প্রায়ই দেখা যায় সন্তানদের ছোটবেলার গল্প আর তাঁদের বেড়ে ওঠার নানা দিক শেয়ার করতে। সম্প্রতি তিনি খোলাখুলি কথা বলেছেন তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থ চোপড়াকে নিয়ে। এবং অকপটে স্বীকার করেছেন, কীভাবে প্রিয়াঙ্কার সাফল্য ও তারকাখ্যাতির আড়ালে তাঁর ছেলে কার্যত “কোল্যাটারাল ড্যামেজ”-এ পরিণত হয়েছিল।
পুরনো দিনের কথা স্মরণ করতে গিয়ে মধু জানান, তিনি চেষ্টা করেছিলেন পেশাগত জীবন আর পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে। তবে সেই সময় প্রিয়াঙ্কার কেরিয়ার সামলাতে গিয়েই সিদ্ধার্থ অনেকটা একাই বড় হয়ে ওঠে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
একটি শো-তে হাজির হয়ে মধু চোপড়া বলেন,“প্রিয়াঙ্কার অর্জিত সমস্ত সাফল্যের বিনিময়ে ক্ষতি হয়েছিল ওর ভাই সিদ্ধার্থর। ওদের বাবা (ডা. অশোক চোপড়া) তখন কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আমি থাকতাম প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে, আর সিদ্ধার্থ একরকম নিজেই নিজেকে বড় করেছে। তখন ও টিনএজার। বলতে গেলে, আমার জীবনের ক্ষেত্রেও ও ছিল কোল্যাটারাল ড্যামেজ।”এই প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ হয়ে মধু আরও বলেন, “এখন বুঝি, জীবনে এমন কিছু বিষয় থাকে, যেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হয়।”
২০২৪ সালে বিয়ে করা সিদ্ধার্থের কথা বলতে গিয়ে মধু যোগ করেন, “আমি ওকে প্রতিদিন লড়াই করতে দেখি। তখন নিজের মনকে বলি, ঈশ্বর যা দিয়েছেন, একে একে সেই আশীর্বাদগুলো গুনে দেখো। দেখবে, কত কিছু তিনি দিয়েছেন। আমি প্রতিদিন নিজের আশীর্বাদ গুনি। আমার দু’টো দারুণ সন্তান আছে, যারা আমাকে ভালবাসে, আমার খেয়াল রাখে।” উল্লেখ্য, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার প্রয়াত বাবা ডা. অশোক চোপড়া এবং মা মধু চোপড়া দু’জনেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এরপর ছেলে-মেয়ের স্বভাবগত পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন মধু। জানান, কাজের প্রতি কঠোর শৃঙ্খলা প্রিয়াঙ্কা তাঁর থেকেই শিখেছে। “আমি খুব ভোরে উঠি। সকাল সাড়ে পাঁচটায় আমার দিন শুরু হয়ে যায়। আমার ছেলে এতটা ভোরে ওঠে না, তবে সাড়ে আটটার মধ্যে উঠে পড়ে। আর প্রিয়াঙ্কা...কাজের ধরন অনুযায়ী দরকার হলে ভোর চারটেয়ও উঠে পড়তে পারে,” বলেন তিনি।
এর আগেও, একটি ইউটিউব চ্যানেলে হাজির হয়ে মধু চোপড়া জানিয়েছিলেন, কীভাবে একসঙ্গে প্রিয়াঙ্কার কেরিয়ার, নিজের চিকিৎসা পেশা এবং সংসারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।“আমি যখন সন্তানদের সঙ্গে থাকতাম, তখন সেটা ছিল শতভাগ ওদের সময়। সেটা খুব জরুরি ছিল। আমার মনে হয়, সেখান থেকেই ওরা কাজের নৈতিকতা শিখেছে, লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, আবার নিজের জন্য, পরিবারের জন্য আর জীবনের জন্যও সময় বের করতে হয়,” বক্তব্য প্রিয়াঙ্কার মায়ের।
