মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির আঁচ লাগতে পারে ভারতেও। ইরান ইজরায়েলের সংঘাতের মাঝে আশঙ্কা করা হচ্ছে গ্যাসের সাপ্লাইয়ে ঘাটতি হওয়ার। ইতিমধ্যেই ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে। শনিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৯৩৯ টাকা হয়েছে। কিন্তু যদি, সত্যি সত্যিই গ্যাসের ভাঁড়ারে টান পড়ে, তবে কি আর গ্যাস পাওয়া যাবে না? কী জানাল কেন্দ্র?
বর্তমান সময়ে গ্যাস বুকিং করা যাবে। কিন্তু আগামী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ২১ দিনের মধ্যে একাধিক সিলিন্ডার বুক করা যাবে না। কিন্তু সে তো বর্তমান সময়ে। যদি অবস্থার আরও অবনতি হয়। গ্যাসের ঘাটতি দেখা যায় তাহলে? কারা গ্যাস আগে পাবেন, আর কারা নয়?
নাগরিকদের রোজকার জীবনের সঙ্গে যে। জেবিষয়গুলো যুক্ত তাতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হবে না বলেই মোদি সরকার জানিয়েছে। অর্থাৎ যানবাহন যেমন অটো, বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, স্কুটার, ইত্যাদিতে যে প্রাকৃতিক গ্যাস ও সিএনজি ব্যবহার করা হয় সেটা পাওয়া যাবে। বাড়ি বাড়িতে পাইপ লাইনের মধ্যে দিয়ে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয় সেটার পরিষেবাও অব্যাহত থাকবে। এমনকী ঘরোয়া রান্নার গ্যাস মানে ডোমেস্টিক এলপিজি সিলিন্ডারও পাবেন নাগরিকরা। সেখানেও কোনও কাটছাঁট করা হবে না। এমনকী যে যানবাহন চলাচলের জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করা হয় সেটাও জারি থাকবে। মোদ্দাকথায়, সরকার সুনিশ্চিত করবে যাতে সাধারণ মানুষের রোজকার জীবন কোনও ভাবে ব্যাহত না হয়।
এই বিষয়গুলো যদি অগ্রাধিকার পায়, তাহলে কোন বিষয়ে গ্যাসের সরবরাহ কমতে পারে? হোটেল শিল্পের উপর কোপ পড়বে। হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে যদি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে, তাহলে বেঙ্গালুরু সহ একাধিক বড় বড় শহরে হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হতে পরে। এমনকী শিল্প ক্ষেত্রেও তেল সরবরাহ কমবে। চা শিল্পে গত ৬ মাসে যত তেল লেগেছে তার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হবে।
যদি অশান্তির আবহ না কমে তবে শিল্পের উপর যে বড় প্রভাব পড়বে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০ দিনের মতো এলপিজি স্টক রয়েছে। যদিও আগামীতে আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তেল আনানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কেন জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে?
হরমুজ প্রণালি জ্বালানি তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিন্তু ইরান ইজরায়েল সংঘাতের কারণে সেই প্রণালি বর্তমানে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আর সেই কারণেই এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
