শান্তিনিকেতনের ভাবনা, নন্দনচেতনা ও জীবনদর্শনকে নতুনভাবে ফিরে দেখার উদ্যোগে কলকাতায় আয়োজন করা হচ্ছে তিন দিনের বিশেষ উৎসব ‘উত্তরায়ণ’। ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অলকা জালান ফাউন্ডেশনের দাগা নিকুঞ্জ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব ।

‘কারু’ নামের একটি বহুমাত্রিক ডিজাইন স্টুডিওর উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন। নিউ টাউনে অবস্থিত এই সংস্থা ভাস্কর্য, প্রোডাক্ট ও গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে পূর্ব ভারতের শিল্প–ঐতিহ্যকে সমকালীন ভাষায় প্রকাশ করে। ‘উত্তরায়ণ’ সেই চর্চারই বিস্তার। যেখানে শিল্পের নানা ক্ষেত্রে শান্তিনিকেতনের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা আজকের সময়ে কতটা প্রাসঙ্গিক, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পুরো কর্মসূচি।

উৎসব জুড়ে থাকবে একাধিক কিউরেটেড প্রদর্শনী। ‘কারু উত্তরায়ণ এক্সহিবিট’-এ তুলে ধরা হবে শান্তিনিকেতনের আচার্যদের শিল্পভাবনা ও দর্শন নিয়ে কারুর অনুসন্ধানের যাত্রা। পাশাপাশি ‘কারু ডিজাইন শোকেস’-এ থাকবে হাতে খোদাই করা ভাস্কর্য, ঐতিহ্যনির্ভর নকশার সামগ্রী ও শিল্পবস্তু।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে শিল্পী শ্রী সুধীর রঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের চিত্রপ্রদর্শনী। আলপনা ও নন্দনভাবনায় তাঁর দীর্ঘ সাধনাকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ আয়োজন। এছাড়া শান্তিনিকেতনের স্বতন্ত্র শিল্পী ও কারুশিল্পীদের নির্বাচিত কাজ নিয়েও থাকছে একটি আলাদা প্রদর্শনী।

১৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসব। এরপর ‘কলা ভবন অ্যান্ড দ্য এস্থেটিক ইম্যাজিনেশন অফ আ নেশন’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেবেন ড. তপতী গুহঠাকুরতা, ইনা পুরী, ড. সোমা ভৌমিক ও সুশোভন অধিকারী। সঞ্চালনায় থাকবেন সন্তোষ সাখিনালা। আলোচনায় উঠে আসবে, আধুনিক ভারতের চিত্রভাষা নির্মাণে কলা ভবনের ভূমিকা।

সন্ধ্যায় ‘মিউজিক ফর দ্য ওয়ার্ল্ডস নেস্ট’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের বহুমাত্রিক আবেগ ও প্রভাব তুলে ধরবেন দেবাশিস রায় চৌধুরী ও তাঁর সহশিল্পীরা।

১৪ ফেব্রুয়ারি থাকবে ‘রাবীন্দ্রিক বলে কি আদৌ কিছু হয়?’ শীর্ষক একটি বিতর্ক সভা। অংশগ্রহণ করবেন সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যশোধরা রায় চৌধুরি, অভিষেক রায়, কাবেরী গোস্বামী, দেবলীনা কুমার এবং অদিতি বসু রায়। সঞ্চালনায় স্রবন্তী বসু বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘বিল্ডিং ফ্রিডম: শান্তিনিকেতন অ্যান্ড দ্য এথিকস অফ বিল্ট এনভায়রমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনায় স্থাপত্যকে নৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রসঙ্গ উঠবে। অংশ নেবেন অরুণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, দিয়ালি লাহিড়ী, সুশোভন অধিকারী ও পঙ্কজ পানওয়ার। সঞ্চালনায় থাকবেন ড. উমা দাশগুপ্ত।

সন্ধ্যায় বসন্ত উদযাপনকে কেন্দ্র করে মঞ্চস্থ হবে নৃত্যনাট্য ‘বসন্ত’, যার পরিকল্পনায় রয়েছেন দীপাঞ্জন পাল।

১৫ ফেব্রুয়ারির আলোচনার বিষয় ‘লিভিং শান্তিনিকেতন: এস্থেটিকস, রিদম অ্যান্ড দ্য আর্ট অফ লাইফ’। শান্তিনিকেতনের উৎসব, সঙ্গীত, শিক্ষাপদ্ধতি ও জীবনভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করবেন শাশ্বতী গুহঠাকুরতা, চৈতালি দাশগুপ্ত, প্রমিতা মল্লিক, ড. সোহিনী ধর, ড. বনতন্বী দাসমহাপাত্র ও ড. অমর্ত্য মুখোপাধ্যায়।

এদিন বিকেলে চন্দ্রিমা রায়ের কণ্ঠে শোনা যাবে রবীন্দ্রকবিতার আবৃত্তি। সন্ধ্যায় শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে রবীন্দ্রনাথের ধ্রুপদি নৃত্যনাট্য ‘শাপমোচন’।