তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে যখন কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করা হয় রীতিমত চমকে উঠেছিলেন সকলে। অভিনেত্রী যে রাজনীতির আঙিনায় পা দিতে পারেন এটা যেন অপ্রত্যাশিত ব্যাপার ছিল অনেকের কাছেই। তবে সেটিকে এদিন বাস্তবায়িত করে বিধানসভায় মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন। একই সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তাঁর প্রতিক্রিয়া।
কোয়েল মল্লিক এদিন তাঁর স্বামী নিসপাল সিং রানের হাত ধরে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আসেন। তাঁর পাশে ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মনোনয়ন জমা দিয়েই অভিনেত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ''জীবনের একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। এটা একটা গুরুদায়িত্ব। আমি কেবল এটাই বলব, যেন সবাইয়ের আশীর্বাদ, ভালবাসা আমার সঙ্গে থাকে। যেন অনেক অনেক মানুষের সেবা করতে পারি, দেশের সেবায় যেন আমি সক্ষম হতে পারি। অনেক মানুষের যেন উপকারে আসতে পারি।''
কোয়েল কি রাজনীতিতে আসার কথা ভেবেছিলেন? এই প্রশ্নের জবাবে নায়িকা বলেন, ''অনেক যে ভেবেছিলাম সেটা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান মনে করি যে আমার নাম নমিনেট করা হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।''
অন্যদিকে লোকসভা থেকে বিধানসভা ঘুরে এবার রাজ্যসভায় যেতে চলেছেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনিও এদিন মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন। তারপরই তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান। বলেন, "আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের কাছে। ওঁরা মনে করেছেন যে এই কাজটা আমি করতে পারব। একনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করতে পারব মনে করেছেন। আমি যেহেতু শিল্পী, স্টেজে গেলে মানুষ গানের আবেদন করেন। এটাও পারফর্ম করার একটা প্ল্যাটফর্ম। এখানে কেবল অনুরোধ, আবেদনের ধরন বদলে যায়।"
এদিন রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামীও রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর তাঁরা সকলেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত কোয়েল মল্লিককে দর্শক শেষবার 'একটি খুনির সন্ধানে মিতিন' ছবিতে দেখেছেন। 'মিতিন মাসী' ফ্রাঞ্চাইজির এই ছবিটি জানুয়ারি মাসে মুক্তি পেয়েছিল। এই ছবিটির পরিচালনা করেছিলেন অরিন্দম শীল।
