সকলের মুখে হাসি ফোটান। তাঁর কৌতুকরসে ভেসে যান অনুরাগীরা। কিন্তু সেই কপিল শর্মার জীবনযাত্রা মোটেই মসৃণ ছিল না। সাফল্যের শিখর থেকে ব্যক্তিগত শোক, বিতর্ক, সব কিছুর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এমন অনেক সময় এসেছে, যখন মনে হয়েছে তাঁর কেরিয়ার বুঝি থেমে যাবে। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের নানা ওঠাপড়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কপিল।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কপিল বলেন, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের আলাদা সৌন্দর্য আছে। তাঁর কথায়, “শৈশব ছিল একরকম। বাবা যখন বেঁচে ছিলেন, জীবন ছিল অন্য রকম। ২০০৪ সালে বাবাকে হারানোর পর সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। পরে টেলিভিশনে আবার সুযোগ পাই, ধীরে ধীরে সব ঠিক হতে শুরু করে। ৩৬ বছর বয়সে প্রবল ডিপ্রেশনে ভুগেছি। একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম। অনেকেই বলেছিল, ‘ওর সব শেষ।’ তারপর বিয়ে করলাম, শো আবার শুরু হল, ৩০০-রও বেশি পর্ব করলাম।”
বাবার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কপিল। তিনি জানান, জীবনের কিছু মুহূর্ত আজও তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তিনি বলেন, “অতীত বদলানো যায় না। যাঁরা চলে গিয়েছেন, তাঁরা আর ফিরবেন না। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’ জেতার পর যখন ১০ লক্ষ টাকার চেক হাতে পাই, তখন কেঁদে ফেলেছিলাম। মনে হয়েছিল, বাবা যদি আজ বেঁচে থাকতেন! আমার শো শুরু হওয়ার পর একদিন রাত ৯টার সময় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। চারপাশের বাড়িগুলোতে টিভি চলছিল, হাসির শব্দ ভেসে আসছিল। মনে হয়েছিল, বাবা থাকলে কত খুশি হতেন। প্রতিদিন তাঁকে মনে পড়ে, তবে কিছু মুহূর্ত বেশি নাড়া দেয়।”
পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে মুম্বইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন কপিল গায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। তবে ২০০৭ সালে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’-এর তৃতীয় সিজন জয়ের পরই তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। এরপর ‘কমেডি সার্কাস’-এ সাফল্য এবং ২০১৩ সালে নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা কেএনাইন প্রোডাকশনের ব্যানারে ‘কমেডি নাইটস উইথ কপিল’ শুরু করে তিনি ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
২০১৫ সালে ‘কিস কিসকো পেয়ার করু’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন কপিল। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়। পরে ‘ফিরঙ্গি’, ‘জ্যিগাটো’, ‘ক্রু’-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গেছে ‘কিস কিসকো পেয়ার করু ২’-এ।
বর্তমানে নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-এর কাজে ব্যস্ত কপিল। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নবজ্যোত সিং সিধু, অর্চনা পুরাণ সিং, কিকু শারদা, সুনীল গ্রোভার ও ক্রুষ্ণা অভিষেক। ইতিমধ্যেই চারটি সিজন সম্পূর্ণ হয়েছে, পঞ্চম সিজনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।
জীবনের কঠিন সময়গুলোকে পেরিয়ে আজও দর্শকদের হাসিয়ে চলেছেন কপিল। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট, সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে থাকে বহু সংগ্রাম আর অধ্যাবসায়ের আখ্যান।
