বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিমি শেরগিলের জীবনে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। গত শনিবার, ১১ অক্টোবর, ৯০ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন তাঁর বাবা সত্যজিৎ সিং শেরগিল। বর্ষীয়ান এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পজগৎ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের এক অমূল্য অধ্যায়ের ইতি ঘটল তাঁর প্রয়াণে। শেরগিল পরিবারের শিকড় বহু পুরনো এক শিল্প–ঐতিহ্যে প্রোথিত। তাঁরা সম্পর্কিত ভারতের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী অমৃতা শেরগিলের পরিবারের সঙ্গে। অমৃতা শেরগিল যেভাবে ভারতীয় আধুনিক শিল্পকলাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন, শতযিত সিং শেরগিলও নিজের জীবনজুড়ে সেই শিল্প-ঐতিহ্যের ধারক ছিলেন।

সত্যজিৎ সিং শেরগিলের ‘ভোগ’ ও ‘অন্তিম আরদাস’-এর অনুষ্ঠান হবে মঙ্গলবার ১৪ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৩০ থেকে ৫টা ৩০ পর্যন্ত মুম্বইয়ের সান্তাক্রুজ পশ্চিমের গুরুদ্বারা ধন পোঠোহার নগরে। এই সময় পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীরাউপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।  


প্রসঙ্গত, ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই  খোলাখুলি কথা বলেছেন জিমি। বিশেষ করে শিখ পরিবারের সদস্য হয়েও কৈশোরে নিজের চুল কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে বাবার সঙ্গে ব্যাপক ঝামেলার মুহূর্তগুলো তিনি ভাগ করে নিয়েছিলেন। তবে এই সমস্ত ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মাঝেও জিমি শেরগিল ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যিনি অভিনেতা হিসাবে সকলের মন জয় করেছেন।

শেরগিলের কেরিয়ার বহু বছর ধরে বড়পর্দা এবং ওয়েব সিরিজ জগতে প্রভাব ফেলেছে। তিনি শুধু বড় পর্দায় নয়, ছোটপর্দাতেও দর্শকদের নজর কেড়েছেন। তাঁর সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে আগস্ট ২০২৫-এ মুক্তিপ্রাপ্ত পাঞ্জাবি সিনেমা মা যায়ে, যা দর্শকদের কাছে ইতিমধ্যেই প্রশংসিত। এছাড়াও তিনি রণনীতি: বালাকোট অ্যান্ড বিয়ন্ড ওয়েব সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এবং ক্রাইম-থ্রিলার সিকান্দর কা মুকাদ্দার-এও তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে।

জিমির ব্যক্তিগত জীবন প্রায়শই তাঁর  অভিনয়জীবনের ছায়ায় থেকেছে। তবে যে সংকটগুলো তিনি অতিক্রম করেছেন, সেগুলোই তাঁকে আরও দৃঢ় এবং প্রফেশনাল করেছে। কৈশোরে চুল কেটে নেওয়ার মতো ছোট্ট বিষয়ও কখনও পরিবারে উত্তেজনা তৈরি করলেও, জিমি তাঁর অনন্য প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সকলের সম্মান অর্জন করেছেন।চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন ভূমিকায় নিজেকে দক্ষ অভিনেতা হিসেবে বারবার প্রমাণ করেছেন জিমি শেরগিল।

বর্তমানে হিন্দি ও পাঞ্জাবি সিনেমায় অদম্য প্রভাব বজায় রেখে জিমি শেরগিল তাঁর অনন্য উপস্থিতি এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর গল্পই প্রমাণ করে যতত বড় চ্যালেঞ্জই হোক না কেন, কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভা সবসময়ই প্রাপ্য সাফল্য এনে দেয়।