২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার নজরকাড়া কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে বামফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাস।
2
8
তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের আবহে তিনি কতটা দাগ কাটতে পারবেন, তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে, তখন তাঁর নির্বাচনী হলফনামা থেকে উঠে এল এক স্বচ্ছ ও মধ্যবিত্ত ভাবমূর্তির ছবি। পেশায় আইনজীবী ৩৫ বছর বয়সী এই তরুণ প্রার্থীর সম্পত্তির খতিয়ান বলছে, লড়াইয়ে বড় বড় নাম থাকলেও তাঁর জীবনযাপন বেশ সাধারণ।
3
8
শ্রীজীব বিশ্বাসের জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর নিজের কাছে নগদ গচ্ছিত রয়েছে ৩৫,০০০ টাকা। পাশাপাশি, তাঁর স্ত্রী কৃত্তিকা রায় চৌধুরীর কাছে রয়েছে ১০,০০০ টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্কে শ্রীজীবের সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
4
8
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্কেও ৫ লক্ষ টাকার বেশি সঞ্চয় রয়েছে। তবে শ্রীজবের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের ঝোঁক রয়েছে শেয়ার বাজারে এবং মিউচুয়াল ফান্ডে। তিনি বিভিন্ন নামী সংস্থা ও ফান্ডে ৩৫.৬২ লক্ষ টাকার উপরে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁর স্ত্রীর ক্ষেত্রেও এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৯.৩৩ লক্ষ টাকা।
5
8
স্থাবর সম্পত্তির কথা বলতে গেলে, শ্রীজীবের নামে কোনও কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। তবে কলকাতার রায়পুর রোডে একটি ফ্ল্যাটের এক-তৃতীয়াংশ অংশের মালিক তিনি, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৩ লক্ষ টাকা বলে জানানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামেও একই ফ্ল্যাটে সমপরিমাণ অংশ রয়েছে।
6
8
যানবাহন বলতে শ্রীজীব ব্যবহার করেন ২০২১ সালে কেনা একটি টাটা নেক্সন গাড়ি। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে একটি রয়্যাল এনফিল্ড ক্লাসিক ৩৫০ মোটরসাইকেল। শ্রীজীবের নিজস্ব কোনও সোনাদানা না থাকলেও, তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ১০০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লক্ষ টাকা।
7
8
সবচেয়ে উল্লেখ্য বিষয় হল, ব্যক্তিগত ঋণের কোনও বোঝা তাঁর কাঁধের ওপর নেই; ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি কোনও ঋণ নেননি। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজরা ক্যাম্পাস থেকে ২০১৩ সালে বিএ এলএলবি (অনার্স) পাশ করেছেন।
8
8
অপরাধের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে কালীঘাট থানায় একটি মাত্র ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। তাতে বেআইনি জমায়েত বা সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ থাকলেও কোনও আদালত থেকেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। ভবানীপুরের মতো ভিআইপি কেন্দ্রে এই ‘ক্লিন ইমেজ’ আর শিক্ষিত ভাবমূর্তিই কি সাধারণ মানুষের ভরসা জিততে শ্রীজীবের বড় হাতিয়ার হবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।