শুক্রবার দুপুরবেলা এক দুঃসংবাদ বয়ে এল টলিপাড়া থেকে। ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট অভিনেতা এবং বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। গল্ফ ক্লাব রোডের নিজের বাসভবনেই এদিন দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে সাংস্কৃতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন শিল্পী। জানা গিয়েছে, স্নায়ুতন্ত্রের অটোইমিউন  সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকবার বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। তবে গত তিন মাস ধরে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল।বিপ্লববাবুর স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত জানান, এদিন সকালেও নিজের হাতে তাঁকে প্রাতরাশ খাইয়েছিলেন। এরপর স্পঞ্জ করানোর সময় আচমকাই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই শেষপর্যন্ত শিল্পী চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেন। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকপ্রকাশ করেছেন শিল্পীরা। ইতিমধ্যেই প্রয়াত শিল্পীর বাসভবনে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী।

 

বিপ্লব দাশগুপ্তর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ অভিনেতা জিতু কামাল। প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে জিতুর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর ও আত্মিক। শিল্পীর প্রয়াণে বিস্ময় ও গভীর শোক প্রকাশ করে জিতু সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “এটা কি হচ্ছে, কি হল কিছুই তো বুঝে উঠতে পারছি না। মানুষটার সঙ্গে আমার পরিচয় ২০১৪-এর শেষে। ২০১৯ সালে একটি প্রজেক্টে আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন উনি। সেখানেই আত্মিক হয় সম্পর্কটা। ২০২২-এ ‘অপরাজিত’ ছবিতে উনি আমাকে প্রভূত সাহায্য করেছেন। উত্তম কুমারের ছবি দেখিয়ে, সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকারের ভিডিও দেখিয়ে উনি আমার কাজে সাহায্য করেছিলেন।  বিদ্যান সমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন—যা আমার জীবনের এক পরম প্রাপ্তি।”

 

জিতু আরও লেখেন, “উনি আমাকে এক অদ্ভুত নেশায় আসক্ত করেছিলেন—বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে, বিভিন্ন হোটেলে থাকা এবং সেখানকার খাবারের স্বাদ গ্রহণ করা। ঘুরতে যাওয়ার এ এক ধরন, তা আগে জানতাম না। সত্যজিৎ রায় বা উত্তম কুমারের কণ্ঠ কপি করে কত মজার ঘটনা ঘটেছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। বিপ্লবদা তুমিও একা করে দিলে! হাতে গোনা কিছু মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রি নামক ফাটকা বাজারে আমার শক্তি। অশুভ শক্তি দমনে তুমিও তো ছিলে আমার এক শিক্ষক। কোন দিকে যাচ্ছি আমরা, কে জানে! ভাল থেকো বিপ্লবদা। দেখা হবে তোমার সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি।”

 

একাধারে তুখোড় অভিনেতা এবং অন্যদিকে তাঁর বাচিক শিল্পে মুগ্ধ ছিলেন অগণিত বাঙালি। বাংলা সিনেমা ও থিয়েটারের জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘ রোগভোগের পর তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগী ও সহকর্মীরা। টলিপাড়ার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও নিখুঁত উচ্চারণের জাদুকর আজ নক্ষত্রলোকে।