২১৫ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। তবে এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। আর্থিক প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত জ্যাকলিন এবার এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ইডি ও দিল্লি পুলিশের নজরে রয়েছেন এই অভিনেত্রী। মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং দামী উপহার নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও পেশ করা হয়েছিল। শুক্রবার দিল্লির একটি বিশেষ আদালতে জ্যাকলিনের পক্ষ থেকে এই আর্জি জানানো হয়। যদি আদালত তাঁর এই আবেদন মঞ্জুর করে, তবে তিনি এই মামলায় অন্যতম রাজসাক্ষী হিসেবে গণ্য হবেন এবং সুকেশের বিরুদ্ধে ইডির হাতে আসা তথ্যপ্রমাণে তাঁর বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগামী ২০ এপ্রিল পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে শুনানি হবে বলে জানা যাচ্ছে।
জ্যাকলিন শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন এবং সুকেশের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। এখন রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় মনে করা হচ্ছে যে, তিনি সুকেশের জালিয়াতি চক্রের ভিতরের আরও অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করতে চলেছেন।
এর আগে ইডি জানিয়েছিল যে, সুকেশ চন্দ্রশেখর অপরাধের টাকা দিয়ে জ্যাকলিন ও তাঁর পরিবারকে কোটি কোটি টাকার উপহার পাঠিয়েছিলেন। এই ঘটনার জেরে অভিনেত্রীকে একাধিকবার জেরা করা হয়েছে এবং তাঁর বিদেশ যাত্রাতেও নানা সময় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট জ্যাকলিনের একটি আবেদন খারিজ করে দেয়। ইডি-র দায়ের করা অর্থপাচার মামলার কার্যক্রম বাতিলের জন্য তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন, যা হাইকোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছিল। জ্যাকলিন শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তাঁর দাবি, সুকেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না। তবে ইডি তাঁদের ২০২২ সালের আগস্টে দেওয়া চার্জশিটে জ্যাকলিনকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নামভুক্ত করেছে। এবার দেখার পালা রাজসাক্ষী হয়ে কী বয়ান দেন জ্যাকলিন।
















