মাধুরী দীক্ষিত মানেই নব্বইয়ের দশকের পর্দা কাঁপানো এক নাম। তাঁর মায়াবী হাসি আর নাচের ছন্দে মুগ্ধ হননি এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে শুধু সাধারণ দর্শকই নন, খোদ বলিউড তারকারাও তাঁর ব্যক্তিত্বের সামনে মাঝেমধ্যে থমকে যেতেন। সম্প্রতি 'দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো'-এ এসে এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করেছেন বলিউডের ‘জগ্গু দাদা’ অর্থাৎ জ্যাকি শ্রফ।
জ্যাকি ও মাধুরী পর্দায় বহুবার রোমান্স করেছেন। 'রাম লক্ষণ', 'খলনায়ক', 'ত্রিদেব'-এর মতো সুপারহিট ছবিতে তাঁদের কেমিস্ট্রি আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু জ্যাকি জানিয়েছেন, পর্দায় সেই সাবলীল রোম্যান্স ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য সবসময় সহজ ছিল না। বিশেষ করে মাধুরীর চোখের দিকে তাকিয়ে প্রেমের দৃশ্য অভিনয় করতে গিয়ে তিনি নাকি বেজায় লজ্জায় পড়ে যেতেন।
জ্যাকির কথায়, "মাধুরী একজন অসামান্য সুন্দরী এবং বড় মাপের শিল্পী। তাঁর উপস্থিতিতে সেটে এক অন্যরকম আভিজাত্য থাকত। যখনই পরিচালক রোমান্টিক দৃশ্যের শট নিতে যেতেন, ওর চোখের দিকে তাকালেই আমি অদ্ভুত এক জড়তা অনুভব করতাম।" তিনি আরও যোগ করেন যে, মাধুরী এতটাই পেশাদার ছিলেন যে তিনি সবসময় জ্যাকিকে সহজ করে দিতেন। কিন্তু অন্তর্মুখী জ্যাকি নিজের সেই লাজুক ভাবটা কাটিয়ে উঠতে পারতেন না।
সাক্ষাৎকারে অভিনেতা সেই পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় বলিউডে একটা অন্যরকম সৌজন্যবোধ ছিল। মাধুরীর সৌন্দর্য আর মেধা তাঁকে এতটাই অভিভূত করত যে, খুব ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করার সময় তিনি অস্বস্তিতে পড়তেন। অথচ পর্দায় তাঁদের দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে নেপথ্যে জ্যাকি কতটা আড়ষ্ট ছিলেন।
ওই শো-এ এসে দু'জন দু'জনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন। মাধুরী বলেন, “কর্মা-র সেটেই ওঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। ওই ছবিতে আমার খুব ছোট্ট একটা গানের দৃশ্য ছিল। আমি তখন ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারে নতুন, তাই খুব নার্ভাসও ছিলাম। আমি যখন পারফর্ম করছিলাম, তখন দেখি জগ্গু দাদা ও অনিলজি (অনিল কাপুর) এক কোণে বসে আমাকে দেখছেন।”
জ্যাকি শ্রফ বলেন, “আমি প্রথমবার মাধুরীর কথা শুনেছিলাম সরোজ খানের মুখে। তিনিই সুভাষ ঘাইকে বলেছিলেন যে, ইন্ডাস্ট্রিতে একজন অত্যন্ত সুন্দরী নায়িকা আর তুখোড় নৃত্যশিল্পী এসেছেন, সুভাষজি যেন তাঁকে কাস্ট করেন। মাধুরীকে দেখে আমি আজও ঠিক আগের মতোই মুগ্ধ হয়ে যাই।”
