দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাম্পত্যে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। কিছুদিন আগেই তাতে পড়েছে আইনের সিলমোহর। নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কে ছেদ টেনেছেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনত বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে জয়জিৎ আর শ্রেয়ার। গত দু’বছর ধরেই পরস্পরের থেকে আলাদা থাকছিলেন তাঁরা। এই বিষয়টি নিয়ে কখনওই প্রকাশ্যে ঢাকঢোল পেটাননি অভিনেতা। এই আইনি বিচ্ছেদ নিয়েও খবর হোক, তাতে আপত্তি ছিল তাঁর। জানালেন, তাঁদের ছেলে যশোজিৎ এখন কলেজে পড়ছে। সদ্য তরুণ। তাই তিনি চাননা, এই খবর ছেলের উপর বা তাঁর আশেপাশের পরিবেশের উপর কোনও প্রভাব ফেলুক। 

 

এই নিয়ে প্রকাশ্যে সেভাবে কথা না বললেও বিবাহবার্ষিকীর দিনটা ভুলে থাকতে পারলেন না জয়জিৎ। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে লিখলেন, 'আজ ২১ হতো পথচলা না থামলে। সামলে বন্ধু সামলে।' (পোস্টের বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।) পরিস্কার করে কিছু ইঙ্গিত না দিলেও জয়জিতের অনুরাগীরা এমনকী নেটিজেনরাও ধরে ফেলেছেন এদিন কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেতা। 

 

কেন প্রায় দু'দশকের বিয়ের সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা? আজকাল ডট ইন-কে জয়জিৎ এর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “যে কোনও সম্পর্কে তিক্ত হয়ে গেলে অথবা সেই সম্পর্কে ক্রমাগত তিক্ততা বাড়তে থাকলে তা ছেড়ে বেরিয়ে আসাই সৎ সিদ্ধান্ত। আর আমরা দু’জনেই যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক তাই এই সিদ্ধান্ত দু'জন মিলেই নিয়েছি। আর একটা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, একে অপরের বিরুদ্ধে আমাদের কিন্তু কোনও অভিযোগ নেই, রাগ নেই। আবার এটাও ঠিক আমার প্রাক্তন স্ত্রী এখন কী করছেন অথবা কার সঙ্গে আছেন-সে সম্পর্কে জানারও আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। সত্যিই নেই। কারও সঙ্গে কোনও সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে এই আগ্রহগুলো থাকার কথাও নয়।”


আর তাঁদের ছেলে যশোজিৎ, তিনি এখন কার কাছে থাকবেন? জবাব এসেছিল, “আইনত যশোজিৎ এখন প্রাপ্তবয়স্ক। সে নিজেই ঠিক করেছে আমার সঙ্গে ও থাকতে চায়। আরও ভাল করে বললে আমার ও আমার মা-বাবা অর্থাৎ ওর দাদু-ঠাম্মার কাছেই ও থাকতে চায়। আসলে, ছোট থেকেই ওঁদের কোলেপিঠেই তো বড় হয়েছে ও। আমি ও শ্রেয়া দু'জনেই কাজে বেরিয়ে যেতাম।  যশোজিতের দাদু-ঠাম্মাই ওকে বড় করেছে। তবে হ্যাঁ, ছেলে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলেছি আমার প্রতি তোমার যা যা কর্তব্য তোমার মায়ের প্রতিও যেন সেই কর্তব্য সমানভাবে পালন করো। কারণ আজ তোমার বাবা-মা আলাদা হয়েছে বটে তবে তাতে তিনি যে তোমার মা, আজীবন এই সত্যিটা মুছে যাবে না। যশোজিৎ ওর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। নিয়মিত কথা হয় ওদের মধ্যে। সবাই তাদের মতো করে ভাল থাকুক। ব্যস!” 

সামান্য থেমে জয়জিৎ ফের বলে উঠলেন, “আর জীবনে প্রেম-সম্পর্কের আমার প্রয়োজন নেই। খুব ভাল আছি। শুধু চাই, ছেলেটা মানুষের মতো মানুষ হোক। আমি নিশ্চিত, ওর মা-ও এটাই চায়।”