মঙ্গলবার দিনভর জিতু কামালের 'এরাও মানুষ'  ছবিকে ঘিরে একের পর এক জটিলতা সামনে আসে। প্রথমে রটে যায় জিতুর এই ছবির সেট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা। প্রকাশ্যে আসে অভিনেতার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। যদিও আসলে কী ঘটেছিল তা নিয়ে আজকাল ডট ইনের কাছে সবটা জানান জিতু। নিজের স্বপক্ষে সমাজমাধ্যমে প্রমাণও প্রকাশ করেন। এবার এবিষয়ে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছেন অভিনেতা। আইনি পথে হাঁটছেন তিনি। 


'এরাও মানুষ...' ছবির শুটিংয়ের গোড়া থেকেই একের পর এক সমস্যা চলেছে। প্রথমদিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অভিনেতা। তারপর জিতুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি নাকি প্রথম দিন থেকেই স্পট বয় থেকে ফ্লোরের অনেকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়,  তিনি জানিয়েছে, ১০ ঘণ্টার বেশি শুটিং করতে পারবেন না। আর যদি করেন এক ঘণ্টার জন্য নাকি দেড় লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেবেন। শুটিং শুরুর কথা বললে অভিনেতা পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন। তারপরই নাকি তিনি বেরিয়ে যান। এরপর নির্মাতাদের তরফে তাঁর সঙ্গে ছবির চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। 


এই ঘটনায় যখন সরগরম টলিপাড়া, তখন সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে পাল্টা তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগ তোলেন জিতু। তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত সকলের সঙ্গে শেয়ার করেন।।এবার এখানেই থেমে থাকলেন না তিনি। আইনি পথে হেঁটে বড় পদক্ষেপ নিলেন। অভিনেতা বলেন, "নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।" তাঁর মামলা লড়বেন আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী। 


এই বিতর্ক প্রসঙ্গে জিতু আজকাল ডট ইনকে বলেছেন, "১৬ তারিখ মানে শুটিংয়ের শেষ দিন ওদের কেন মনে হল যে আমি মেকআপ করছি না, সহযোগিতা করছি না। এরা নতুন। শুটিং শেষ হওয়ার পর বাদ দেওয়া, শিল্পীর অনুমতি ছাড়া ডাবিং নিজের মতো করে নেওয়া যায় না। এগুলো জানে না। গায়ে হাত দিতে আসা, গালি দেওয়া, এটা কে মানবে? শেষ দিন বলে এটা করা যায়? পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলছে, কিন্তু কেন সেটা তো বলছে না। এমনই এমনই বলছে? আমার কাছে একটা ভিডিও ফুটেজ আছে, অমিত তালুকদার, পুরনো লোক বলে নিজেকে দাবি করে, যদিও চিনি না, ও বারবার অরূপদা (অরূপ বিশ্বাস), পিয়াদির (পিয়া সেনগুপ্ত) নাম করে, তাঁদের দিয়ে থ্রেট করানোর কথা বলে। এইগুলো করেছে। আমি যখন হাসপাতালে ভর্তি হই, এঁদের কারণে হই। এদের ধুলোবালি, হাবিজাবির কারণে। কিন্তু এসব অ্যাম্বার পাউডার দিয়ে লুকসেট হয়নি। হলে ওখানেই বারণ করে দিতাম। কারণ আমার অ্যাজমা আছে। তাঁরা বিশ্বাসই করছেন না যে আমার শরীর খারাপ হতে পারে। আমি ওখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ি, তাও তাঁরা বিশ্বাস করেননি প্রথমে।" 


তিনি আরও বলেন, "আমায় সবার সামনে বলেছে এটা কি হারামের টাকা? মেরে তোমায় ঠান্ডা করে দেব। তোমার গায়ে কেউ হাত দেয়নি বলে তুমি এসব করে বেড়াচ্ছ। আমি ভেবেছি ইয়ার্কি করছে। আমিও বলেছি মারো মারো। দড়াম করে দরজাটা আমার হাতের সামনে বন্ধ করে দেন। সাই প্রকাশ আমায় 'বেরিয়ে যা' বলেন, তখন আমি বেরিয়ে আসি। কারণ ওখানে শুটিংয়ের পরিবেশ ছিল না। শেষ দিনে এটা ঘটাল। হয়তো আমি ওদের ফাঁদে পা দিলাম। না বেরিয়ে যদি আমি তর্ক করতাম। ফোরামকে জানিয়েই বেরিয়েছি। কিন্তু এঁরা পাওয়ার গেম খেলার চেষ্টা করে। নেতা মন্ত্রী, এসব করার চেষ্টা করে। আইনি জায়গায় যাবে, আমিও নিশ্চয় আইনি ভাবে লড়ব। কিন্তু গায়ে হাত তোলা, হুমকি দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে, যে আমি বলছি আমায় সরি বলতে হবে সেটাও আছে।" 


প্রসঙ্গত 'এরাও মানুষ' ছবিতে জিতুর বিপরীতে দেখা যাবে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে। পরিচালক সাই প্রকাশ লাহিড়ি। গোটা ঘটনার বিষয়ে পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়, কিন্তু উত্তর পাওয়া যায়নি।