জীবনের রঙ্গমঞ্চকে বিদায় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শুটিংয়ে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমে জানান শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল, পরবর্তীতে জানান রাহুল এত বেশি পারফেকশনিস্ট যে তিনি জোর করিয়েছিলেন ড্রোন শটের জন্য, তারপরই ঘটে এই বিপত্তি। 

লীনা গঙ্গোপাধ্যায় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে আসেননি। আসেননি তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতেও। এখান থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, কেন? যদিও প্রযোজক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ, কিন্তু নেটপাড়ার প্রশ্ন তিনি আদৌ অসুস্থ তো নাকি সবটাই দায় এড়ানোর চেষ্টা? উত্তর অজানা। 

লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আজকাল ডট ইনকে এই বিষয়ে জানান, "শুটিং প্যাক আপ হয়ে গিয়েছিল।  আমাদের যিনি প্রোডাকশন ম্যানেজার তিনি আর্টিস্টদের ছাড়তেও গিয়েছিলেন। অম্বরীশ রাজন্যা সহ অনেকেই ছিল। ওরা গাড়িতে উঠে গিয়েছিল৷ রাহুল অত্যন্ত পারফেকশনিস্ট। খুব মন দিয়ে কাজ করত৷ ওর মনে হয়েছিল আরেকটা ড্রোন শট দেব। প্যাকআপ হয়ে যাওয়ার পরেও ড্রোন শট নেওয়ার কথা বলে রাহুল। পরিচালক জানিয়েছিল, স্ক্রিপ্টে এই ড্রোন শট ছিল না। হাঁটুজলেই শুট হচ্ছিল। সেই সময় একটা ঢেউ  আসে। যতটুকু শুনেছি শ্বেতা পড়ে যায়। তখন শ্বেতা আর শুট করতে রাজি হয় না। চলে আসে ওকে ইউনিটের লোকজন নিয়ে। তার পর আরও একটা ঢেউ আসে৷ রাহুল পা স্লিপ করে পড়ে যায়। এই জায়গায় পা হড়কে পড়ে গেলে যা হয় সেটাই হয়েছে। ওখানে আমাদের নৌকা ছিল। তারপর রাহুলকে উদ্ধার করা হয়। যতটুকু শুনেছি তাতে পুরো ঘটনা ৫ মিনিটের মধ্যে হয়েছে। পাড়ে ওঠার পরেও ওর জ্ঞান ছিল। এটা আমাকে শ্বেতা এবং পরিচালক বা প্রোডাকশন ম্যানেজারও বলেছেন। এরপর রাহুলের শরীর থেকে জল বার করা হয়। এবং গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখনও দুবার তাকিয়েছে রাহুল এমনটাই জানিয়েছেন প্রোডাকশন ম্যানেজার।  কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তখন চিকিৎসকেরা রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।"

সত্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ শুনে লীনা গাঙ্গুলি প্রশ্ন তোলেন, "কেন?  রাহুলের সঙ্গে কি আমাদের শত্রুতা ছিল? একমাত্র রাহুল জানত আমাদের সঙ্গে ওর কী সম্পর্ক!  তাঁর কিছু চ্যাট আছে আমার কাছে৷ দুটো এলাকার পুলিশ তদন্ত করছে। ও আমাদের খুব পছন্দের শিল্পী। কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকত। এগুলোর প্রমাণ তো নেই। এগুলো তাই এখন বলতেও চাইছিলাম না। আগে তদন্তের রিপোর্ট আসুক।''