ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের রাতটা যখন গর্জে উঠছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের উল্লাসে, ঠিক তখনই মাঠের এক আবেগঘন মুহূর্ত হঠাৎ করে কাড়ল নেটদুনিয়ার নজর। হার্দিক পাণ্ডিয়া-র বাইশ গজের বিশ্বজয়ের উদযাপনের মাঝেই ক্যামেরাবন্দি হল এক মিষ্টি দৃশ্য - গ্যালারি থেকে ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন গালে গভীর চুমু এঁকে দিলেন বান্ধবী মাহিকে শর্মা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ছে। ঠিক সেই সময়েই মাঠে ঢুকে পড়েন মাহিকা। ভারতের জয়ের সিলমোহর পড়ার পরই তিনি হার্দিককে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন এবং গালে একটি গভীর চুমু দেন। চারদিকে যখন আতশবাজি, উল্লাস আর চিৎকার। তার মাঝেই এই ছোট্ট ব্যক্তিগত মুহূর্ত যেন অন্যরকম আবেগ এনে দিল উদযাপনে।


এই নিয়ে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হাতে তুললেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। বিশ্বজয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আরও বড় শপথ নিলেন ভারতের এই তারকা অলরাউন্ডার। আরও দশ বছর তিনি ক্রিকেট খেলবেন। আর এই দশ বছরে আরও দশটা খেতাব তিনি জিততে চান। এর মধ্যে রয়েছে আইসিসি টুর্নামেন্ট, রয়েছে আইপিএল। হার্দিক পাণ্ডিয়া বলছেন, ''আমি এখন সিনিয়র ক্রিকেটার হয়ে গিয়েছি, এটা শুনতেও বেশ ভাল লাগছে। আরও দশ বছর আমার মধ্যে ক্রিকেট রয়েছে। এখনও পর্যন্ত আমি আমার কেরিয়ারের অর্ধেক ক্রিকেট খেলেছি। আরও অর্ধ বাকি আছে। আরও দশটা ট্রফি আমি জিততে চাই। তার মধ্যে রয়েছে আইসিসি ট্রফি ও আইপিএল। আইসিসি ট্রফি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে।'' 

হার্দিক ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলছেন, “আমি যাই খেলি, সেটাই জিততে চাই। পরবর্তী দশ বছরে আরও পাঁচ-ছ'টা ট্রফি তো জিতবই। হেরে যাওয়া আমার মানসিকতায় নেই।” 

প্রসঙ্গত, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে এই জয়ের মাধ্যমে ভারত হয়ে উঠেছে প্রথম দল যারা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা সফলভাবে ধরে রাখতে পেরেছে।এই সাফল্যের নেপথ্যে অবশ্যি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল হার্দিকেরও। টুর্নামেন্ট জুড়ে তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দলের জয়ের পথ অনেকটাই মসৃণ করে দেয়।

সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হার্দিক নিজের আবেগ লুকোননি। তাঁর কথায়, এই ট্রফি জেতাই ছিল জীবনের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলেন মূলত ট্রফি জেতার জন্য, এবং যত বেশি সম্ভব শিরোপা নিজের ঝুলিতে তুলতে চান। ২০২৪ সালেই তিনি বলেছিলেন, যে ট্রফির জন্য খেলবেন, সেটাই জিততে চান, এই জয় যেন সেই বিশ্বাসেরই প্রমাণ।

কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবনে মাহিকার উপস্থিতিকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। হার্দিক জানান, জীবনে কঠোর পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু একইসঙ্গে তাঁর জীবনে মাহেইকা আসার পর থেকে যেন ভাগ্যও সহায় হয়েছে, এমন ইঙ্গিতই দেন ভারতীয় অলরাউন্ডার।ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপনের আরও কিছু ছবিতে দেখা যায়, আতশবাজির আলোয় আলোকিত মাঠে পাশাপাশি হাঁটছেন হার্দিক ও মাহিকা। হাত ধরাধরি করে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপভোগ করছেন তাঁরা।

পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও হার্দিককে অভিনন্দন জানান মাহিকা। ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা হার্দিকের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “দ্য ম্যান, দ্য মিথ, দ্য লেজেন্ড।”

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">March 8, 2026

 

 

হার্দিক ও মাহিকার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হয় ২০২৫ সালে। ২৫ বছর বয়সি এই মডেল-অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা চলতি বছরের শুরুতেই প্রকাশ্যে আনেন হার্দিক, তাঁর জন্মদিনে একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে।

এর আগে হার্দিকের বিয়ে হয়েছিল অভিনেত্রী নাতাশা স্ট্যানকোভিচ-এর সঙ্গে। ২০২০ সালে তাঁদের বিয়ে হলেও ২০২৪ সালে আলাদা হয়ে যান দু’জনে। সেই বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনের সেই পরিবর্তনের পরও তাঁদের ছেলে অগস্ত্য পাণ্ডিয়া-কে যৌথভাবেই বড় করছেন দু’জন।

ক্রিকেট মাঠে ঐতিহাসিক জয়, আর সেই রাতেই এক আবেগমাখা ব্যক্তিগত মুহূর্ত—সব মিলিয়ে হার্দিক পাণ্ডিয়ার এই উদযাপন যেন বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও একটু মানবিক, আরও একটু স্মরণীয়, আরও অন্যরকম করে তুলল।