পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইয়ে জড়ালেন অভিনেত্রী হংসিকা মোতওয়ানি। নিজের প্রাক্তন বৌদি মুসকান ন্যান্সি জেমসের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন তিনি। এই মামলার মাধ্যমে হংসিকা কেবল বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণই চাননি, বরং মুসকানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনওরকম মন্তব্য না করার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।
হংসিকার অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাঁর ভাই প্রশান্ত মোতওয়ানির সঙ্গে বিয়ের সময় মুসকান তাঁর কাছ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও মুসকান সেই টাকা ফেরত দেননি। অভিনেত্রীর দাবি, মূলত এই ধারের টাকা ফেরত দেওয়া থেকে বাঁচতেই মুসকান তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।
উল্লেখ্য, এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল মুসকানের দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে। এর আগে তিনি তাঁর স্বামী এবং ননদ হংসিকার বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা এবং দাম্পত্য জীবনে অনধিকার হস্তক্ষেপের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন। মুসকান আরও দাবি করেছিলেন যে, এই পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণেই তিনি স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে দুই পক্ষের এই টানাপড়েন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই হংসিকার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। ২০২২ সালে সাতপাকে বাঁধা পড়েন হংসিকা মোতওয়ানি এবং সোহেল খাটুরিয়া। এরপর ২০২৫ সালের অগাস্ট মাস থেকেই জল্পনা শুরু হয় তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের। অবশেষে ১১ মার্চ এই জল্পনায় সিলমোহর পড়েছিল। জানা গিয়েছিল মুম্বইয়ের বান্দ্রার ফ্যামিলি কোর্ট তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, হংসিকা মোতওয়ানি বলিউডের অতি চেনা মুখ। তিনি 'আপ কা সুরুর', 'অরু কাল অরু কন্নড়ি', 'মাই নেম ইজ শ্রুতি', ইত্যাদির মতো ছবিতে কাজ করেছেন। ২০২২ সালে তিনি ব্যবসায়ী সোহেল খাটুরিয়াকে বিয়ে করেন। জয়পুরের এক বিলাসবহুল দুর্গ তথা রাজপ্রাসাদে তাঁদের বিবাহ বাসর বসেছিল। চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চার হাত এক হয় তাঁদের। ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে সমাজমাধ্যমে হঠাৎই গুঞ্জন রটে হংসিকা এবং সোহেলের বিবাহ বিচ্ছেদের।
জানা গিয়েছে, দু'জনের সম্মতিতে এই বিচ্ছেদ ঘটেছে। দুই পক্ষই চায়নি এই সম্পর্কটায় থাকতে। তাই এমন সিদ্ধান্ত। হংসিকা মোতওয়ানি বিবাহ বিচ্ছেদের পর কোনও রকম খোরপোষ দাবি করেননি। এমনটাই তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। তিনি এও জানিয়েছেন হংসিকাই প্রথমে বিবাহ বিচ্ছেদের কথা তাঁর স্বামীকে জানান। আর সেখান থেকেই তাঁরা আইনি ভাবেই এই বিয়েতে ইতি টানলেন।















