দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডের পর্দা থেকে খানিকটা দূরে আছেন অভিনেতা গোবিন্দা। মাঝেমধ্যে রিয়ালিটি শো বা বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে দেখা গেলেও গত ছয় বছরে তাঁর নতুন কোনও ছবি মুক্তি পায়নি। তবে ব্যক্তিগত জীবন ও নানা বিতর্ক ঘিরে মাঝেমধ্যেই শিরোনামে উঠে আসে তাঁর নাম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের অন্দরমহলের এমন কিছু বাস্তবতার কথা তুলে ধরলেন তিনি, যা শুনে অনেকেই চমকে যেতে পারেন।

এক সাক্ষাৎকারে কথাপ্রসঙ্গে অভিনেতা সোজাসাপটা প্রশ্ন তোলেন - বলিউডে আদৌ কি কারও চরিত্র পুরোপুরি নিষ্কলঙ্ক থাকে? তাঁর কথায়, “এই লাইনে কার নামটাই বা একেবারে পরিষ্কার? কেউ যদি একেবারে বিতর্কহীন হন, তবে উল্টে সন্দেহই হয়। অনেক সময় মানুষ কাউকে অতিরিক্ত ভালবাসে বলেই তাকে ঘিরে ভয় বা দূরত্ব তৈরি হয়। কেউ সময়মতো শুটিংয়ে আসে, ভাল মানুষ—এসব কারণেও সম্মান পায়। কিন্তু তবু কোনও না কোনও সময়ে তার নাম নিয়ে কথা উঠবেই।”

বলিউডের ইতিহাস টেনে এনে তিনি আরও বলেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় প্রত্যেক তারকাকেই কোনও না কোনও সময় বদনাম বা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের-এর কথা। গোবিন্দার দাবি, একসময় যিনি ইন্ডাস্ট্রির ‘পারফেক্ট অভিনেতা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনিও দীর্ঘ সময় কাজের বাইরে ছিলেন।

একইভাবে তিনি স্মরণ করেন এক সময়ের সুপারস্টার রাজেশ খান্না-কে। গোবিন্দর মতে, তাঁর কেরিয়ারের মাঝামাঝি সময়েই হঠাৎ করে সমালোচনার ঝড় ওঠে—অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন, তিনি আর আগের মতো নেই, তাঁর অভিনয় বা উপস্থিতি নাকি বদলে গেছে।

শুধু অতীতের তারকারাই নন, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন আমির খান-এর নাম। গোবিন্দার কথায়, “একসময় আমিরের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই একই মানুষকে সবাই ‘পারফেকশনিস্ট’ বলে সম্মান জানাতে শুরু করল।”

গোবিন্দার মতে, বলিউডে বিতর্ক বা বদনাম অনেক সময়ই কেরিয়ারের স্বাভাবিক পর্ব। “কখনও কখনও বিষয়গুলো সীমা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় সবাইকে কোনও না কোনও সময় ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয়, বা খারাপ নাম দেওয়া হয়। আসল বিষয়টা হল, সেই পরিস্থিতি থেকে কে কীভাবে ফিরে আসে,” বলেন তিনি।

নয়ের দশকে একের পর এক হিট ছবির মাধ্যমে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হয়েছিলেন গোবিন্দ। রাজা বাবু, কুলি নম্বর ওয়ান, পার্টনার, ভাগম ভাগ বা বড়ে মিঞা ছোটে মিঞা-এর মতো তাঁর অভিনীত বহু ছবিই আজও দর্শকের স্মৃতিতে টাটকা। তবে ২০০০ সালের পর থেকে গোবিন্দার সেই জৌলুস কিছুটা কমে আসে। তারপর একেবারেই হারিয়ে যায়। গোবিন্দাকে শেষবার বড়পর্দায় দেখা গিয়েছিল রঙ্গিলা রাজা ছবিতে, যা মুক্তি পেয়েছিল ২০১৯ সালে।

এদিকে সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও চর্চায় ছিলেন গোবিন্দ। তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজা-র সঙ্গে বিচ্ছেদের জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও তাঁদের আইনজীবী পরে জানান, ছ’মাস আগে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা হলেও এখন আবার দু’জনকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলিউডের উজ্জ্বল আলো আর অন্ধকার ছায়ার মাঝখানে দাঁড়িয়ে গোবিন্দ যেন মনে করিয়ে দিলেন এক পুরনো সত্যি। স্টারডমের পথ কখনওই একেবারে মসৃণ নয়। বিতর্ক, সমালোচনা আর কামব্যাক — এই তিনেই যেন তৈরি হয় বলিউডের তারকাদের আসল গল্প।