মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ–এর কো চেয়ারপার্সন, সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির গভর্নিং বডির সদস্য, "আজকাল" এর ডিরেক্টর, শিল্পোদ্যোগী ও সাহিত্যিক মৌ রায়চৌধুরী। কথা বলার মতো অবস্থায় নেই গার্গী রায়চৌধুরী। বরাবর তিনি বলে এসেছেন, মৌ রায়চৌধুরী তাঁর মাতৃসম। অনেক ছোটবয়সে মা-বাবাকে হারিয়েছেন। সাহিত্যিক-প্রযোজক নিজগুণে কখন যেন গার্গীর মা হয়ে উঠেছিলেন।

আজকাল ডট ইনের সঙ্গে কথার শুরুতেই বলেছেন, ‘‘আজ গুছিয়ে কথা বলতে পারব না। সব কথা স্মৃতির ভারে এলোমেলো হয়ে যাবে।’’ তারপরেই আফসোস, এতটা না জড়ালেই বোধহয় ভাল হত। তা হলে এই ব্যথা এত তীব্র হত না। তখনও গার্গী আজকাল দৈনিকের একজন হয়ে ওঠেননি। সেই সময় থেকে মৌ রায়চৌধুরীর তিনি কাছের জন। দিন কেটেছে। সেই আত্মার সম্পর্ক ক্রমশ গাঢ় হয়েছে। ‘তুমি’ সম্বোধন বদলে গিয়েছে ‘তুই’তে। গার্গীর কথায়, ‘‘কোনও দিন আমার জন্মদিন ভুলে যাননি মৌদি।’’ তাই তাঁর চলে যাওয়া অভিনেত্রী কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। যেহেতু ছোটবয়সে মাতৃপিতৃহীন, তাই কাছের মানুষের অভাব তিনি ততটাও বুঝতে পারেননি। যতটা আজ, এখন পারছেন।

পেশা এবং পারিবারিক জীবনে মৌ রায়চৌধুরীর একটাই মন্ত্র, ভালবাসা। একই সঙ্গে অত্যন্ত স্বচ্ছ মনের মানুষ। যিনি ভালবাসতেন উজাড় করে, অভিমান-অনুযোগও জানাতেন একই ভাবে। পরক্ষণেই সব ভুলে কাছে টেনে নিতেন। এরকম মানুষকে ভাল না বেসে পারা যায়! এবং এমন মানুষের জন্যই সারাক্ষণ ‘হারাই হারাই’ ভয় কাজ করে। আবার পরোক্ষে থেকে এঁরাই শোক সামলানোর ক্ষমতা জোগান। কেবল এঁরা সামনে থাকেন না।