চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের কেরিয়ারের প্রথম এবং এক ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই ধরণের পারফরম্যান্সের নজির ইতিহাসে আর কারও নেই। মেসিকে এই বিস্ফোরক ছন্দে দেখে খোদ আর্জেন্টিনার কোচ থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ওঁর ভক্তরা উল্লাসে ভাসছেন।
কিন্তু মেসির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখে ওঁর ‘শত্রু’ বা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের কী অবস্থা? টলিপাড়ার কট্টর ব্রাজিল ভক্তরা কী ভাবছেন? ‘আজকাল ডট ইন’ খোঁজ নিয়েছিল থিয়েটার, সিনেমা এবং অতি সাম্প্রতিক ‘অথৈ’ ছবির জনপ্রিয় পরিচালক-অভিনেতা অর্ণ মুখোপাধ্যায়-এর কাছে। ফুটবল মাঠ এবং ব্রাজিল দলের প্রতি অর্ণ-র প্যাশন সর্বজনবিদিত। কিন্তু সেই কট্টর সাম্বা-ভক্তও আজ মেসি-ম্যাজিকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন!

নিজের ব্রাজিল প্রীতির কথা বলতে গিয়ে অর্ণ জানান, ওঁর গোটা পরিবার ব্রাজিলের সমর্থক। ওঁর ছোটবেলা কেটেছে ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সালের সেই সোনালী ব্রাজিলের দাপট দেখে, যেখানে খেলতেন রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহো, কাফু, রিভাল্ডো বা দুঙ্গার মতো তারকারা। ফলে অন্য কোনও দলের দিকে তাকানোর অবকাশই ছিল না ওঁর। তবে এরপরেই গণ্ডগোলতা শুরু হয়। কীরকম? অর্ণর কথায়, “এরপর ২০০৬ সালে ১৯ নম্বর জার্সি পরা একটা লম্বাচুলো ছেলে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপের মাঠে পা রাখল, আর তারপর কেমন যেন সব ঘেঁটে গেল। পরে তাঁর জার্সি নম্বর বদলে হয়ে গেল ১০। আর আমরা অবাক হয়েই দেখে চললাম। একটু বুঝিয়ে বলি, আমরা রোনাল্ডিনহোর মধ্যে শৈল্পিকতা দেখেছি, জিদানকে পুরো মাঠ জুড়ে অর্কেস্ট্রা লিডারের মতো কন্ডাক্ট করতে দেখেছি... কিন্তু দেখা গেল মেসি সবার থেকে আলাদা। ড্রিবলে যাকে-তাকে ফেলে দিচ্ছে, কড়া ট্যাকেলেও তাকে ছোঁয়া যাচ্ছে না... এটা তো ‘নেভার সিন বিফোর’!
মেসির টেকনিক্যাল দক্ষতার প্রশংসা করে অর্ণ আরও বলেন, " মেসি একাধারে বলমেকার, উইঙ্গার, স্কোরার এবং লিডার। ওঁর উপস্থিতি মানেই বিপক্ষ দলের হাল ছেড়ে দেওয়া। আমার তো মনে হয় মেসি আমাদের গ্রহের সাধারণ মানুষই নন, ও কোনও আলাদা সৌরজগতের বাসিন্দা!
আর ঠিক এই জায়গাতেই একজন ব্রাজিল ভক্ত হিসেবে ওঁর চরম আফসোস আর ঈর্ষা। অর্ণ অকপটে স্বীকার করেন, “আমার একটা বিরাট ঈর্ষার কারণ কেন মেসি ব্রাজিলে জন্মালো না! কেন ব্রাজিল ফুটবল দলের হয়ে ও খেলল না। দেখুন, আর্জেন্টিনাকে এই জীবদ্দশায় সমর্থন করতে পারব না, কিন্তু মেসিকে কুর্নিশ না করে পারবও না। আর প্রায় ৩৯ বছর বয়সে চলতি বছরের বিশ্বকাপের ওঁর প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক! ইয়ার্কি হচ্ছে!”
আর্জেন্টিনার এই জয় এবং মেসির ফর্ম দেখে নিজের প্রিয় দল ব্রাজিলকে নিয়ে বেশ আফসোস ঝরে পড়ল অভিনেতার গলায়। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এই শুরু দেখে প্রতিবেশীদের উদাহরণ টেনে এক আফসোস ভরা মজাদার মন্তব্য করলেন অর্ণণ।
ওঁর মতে, প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনার ভক্তদের দেখে এখন ওঁর সেই প্রতিবেশীর মতো ঈর্ষা হচ্ছে, যে পাশের বাড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবে— “আরেব্বাস! ও অট্টালিকা বানিয়ে ফেলল আর আমি দেনায় জর্জরিত হয়ে গিয়ে একটা দু’কামরার ফ্ল্যাটে বসে আছি!”
চিরকাল মাঠের লড়াইতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নারদ-নারদ সম্পর্ক হলেও, ৩৯ বছর বয়সে মেসির এই ‘মহাজাগতিক’ হ্যাটট্রিক যে সমস্ত ফুটবল ভক্তের মতো অর্ণ-এর বুক চিরে কেবল ‘সম্মান’ আদায় করে নিয়েছে, তা ওঁর এই অকপট স্বীকারোক্তিই প্রমাণ করে।















