বাঙালি মেয়ের জেদের কাছে হার মানল বলিউড! একসময় যে মেয়েটিকে রিয়ালিটি শো ‘সারেগামাপা’-র মঞ্চ থেকে ‘খুঁত’ থাকার দোহাই দিয়ে বাদ পড়তে হয়েছিল, আজ তাঁর কণ্ঠেই মজেছে গোটা নেটদুনিয়া। অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের সান্নিধ্যে বলিউড সিনেমায় গান গেয়ে রাতারাতি আলোড়ন ফেলেছেন হুগলির ব্যান্ডেলের মেয়ে নীলাঞ্জনা ঘোষ দস্তিদার। ‘মে ওয়াপাস আউঙ্গা’ সিনেমায় তাঁর গাওয়া ‘মাস্কারা’ গানটি এখন সুপার-ভাইরাল। মফস্বলের এক চিলতে ঘর থেকে মায়ানগরীর এই উত্তরণ যেন কোনও সিনেমার চেয়ে কম নয়!
হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সাহাগঞ্জের বাসিন্দা নীলাঞ্জনার রক্তেই রয়েছে সুর। বাবা সন্দীপন ঘোষ দস্তিদার একজন পেশাদার বেস গিটারিস্ট এবং মা শ্রাবণী ঘোষ দস্তিদার একজন সঙ্গীতশিল্পী। তবে ছোটবেলায় নীলাঞ্জনার মা তাঁকে নাচের ক্লাসে ভর্তি করিয়েছিলেন। নাচ একদমই ভাল লাগত না ছোট্ট নীলাঞ্জনার, মন পড়ে থাকত বাড়ির গানের রেওয়াজে।
একদিন নাচের ক্লাসে যাওয়ার ঠিক আগে মায়ের হাত ধরে বেঁকে বসেন তিনি। সাফ জানান, নাচ নয়, তিনি গান শিখবেন। মেয়ের জেদের কাছে হার মানেন মা-ও। শুরু হয় কঠোর পরিশ্রম। তবে সাফল্যের রাস্তা মসৃণ ছিল না। বেশ কয়েকবার বড় বড় রিয়ালিটি শো-এর অডিশন থেকে ছিটকে যান তিনি। কিন্তু ভেঙে পড়ার পাত্রী নীলাঞ্জনা ছিলেন না। নিজের ত্রুটিগুলো শুধরে নিয়ে দ্বিগুণ উদ্যমে শুরু করেন রেওয়াজ।

কীভাবে মিলল বলিউডের এই রাজকীয় সুযোগ? সেই অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার কথা শোনাতে গিয়ে আপ্লুত নীলাঞ্জনা বলেন, “২০২৪ সালে আমি আমেরিকা বেড়াতে গিয়েছিলাম। আচমকাই একদিন এ আর রহমান স্যারের অ্যাসিস্ট্যান্ট আমাকে ফোন করেন এবং স্যারের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। ওখানে যাওয়ার পর আমাকে ‘মাস্কারা’ গানটি গাইতে বলা হয়। অস্কারজয়ীর সামনে গান গাওয়ার আগে প্রচণ্ড নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু পরে মন দিয়ে গাই। তখনও জানতাম না আমার গান সিলেক্ট হবে। আজ যখন সিনেমার পর্দায় নিজের গান শুনছি, গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে! সঙ্গীত জীবনে এর চেয়ে বড় পাওনা আর কিছু হতে পারে না।”

নীলাঞ্জনা আরও যোগ করেন যে, তাঁর এই লড়াইয়ে বাবা-মায়ের পাশাপাশি তাঁর স্বামী (যিনি নিজেও সুরের জগতের মানুষ) সবসময় ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন। তবে এই সাফল্যকেই শেষ স্টেশন মানতে নারাজ তিনি। তাঁর মতে, রেওয়াজ ও পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই, কারণ পথচলা সবে শুরু হয়েছে।
মেয়ের এই সাফল্যে চোখে জল বাবা সন্দীপন বাবুর। তিনি বলেন, “আমি নিজে একজন মিউজিশিয়ান, তাই বুঝি রহমান সাহেবের টিমে সুযোগ পাওয়া কতটা ভাগ্যের। ছোটবেলায় ওকে আমি গান শেখাতাম, আর আজ ও এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে আমি ওর থেকে শিখি। ও আমাদের বংশের নাম উজ্জ্বল করেছে।” অন্যদিকে মা শ্রাবণী দেবী জানান, মেয়ের এই কঠোর পরিশ্রমই আজ তাকে বলিউডের দরজায় পৌঁছে দিয়েছে। ব্যান্ডেলের মফস্বল এলাকা থেকে টিনসেল টাউনে নীলাঞ্জনার এই রাজকীয় এন্ট্রি দেখে এখন উৎসবে মেতেছে গোটা হুগলি জেলা।















