কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন তুমুল চর্চা, তখন সাহিত্যিক সলমন রুশদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট মতপ্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাহিত্য, সিনেমা বা গল্প বলার মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রে AI-এর কোনও জায়গা নেই। মানুষের কল্পনাশক্তি, অনুভূতি এবং জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই প্রকৃত শিল্পের জন্ম হয়, যা কোনও যন্ত্র কখনও তৈরি করতে পারে না।
এক সাক্ষাৎকারে রুশদি বলেন, গল্প লেখা বা সাহিত্য সৃষ্টির মূল শক্তি হল মানুষের চিন্তা, আবেগ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। AI বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে লেখা তৈরি করতে পারলেও, তার নিজের কোনও অনুভূতি, স্মৃতি বা জীবনবোধ নেই। তাই প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, একজন লেখকের বা কবির বা গীতিকারের সৃষ্টিশীলতার বিকল্প হতে পারে না।
রুশদির মতে, AI কিছু প্রযুক্তিগত কাজে সাহায্য করতে পারে, গবেষণায় সহায়ক হতে পারে বা তথ্য সংগ্রহের কাজ সহজ করতে পারে। কিন্তু সাহিত্য বা সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরির মতো সৃজনশীল কাজে মানুষের কল্পনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, যন্ত্র কখনও মানুষের মতো অনুভব করতে পারে না, আর অনুভূতি ছাড়া শিল্প অসম্পূর্ণ।
বিশ্বজুড়ে AI-নির্ভর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা বাড়লেও, অনেক লেখক, শিল্পী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ইতিমধ্যেই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত AI-নির্ভরতা মৌলিক সৃষ্টিশীল কাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং শিল্পের স্বকীয়তা হারিয়ে যেতে পারে।
সলমন রুশদির মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর বিশ্বাস, প্রযুক্তি মানুষের সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সৃষ্টিশীলতার চালিকাশক্তি হতে পারে না। সাহিত্য, সিনেমা কিংবা গল্প বলার ক্ষেত্রে মানুষের কল্পনা, অভিজ্ঞতা ও আবেগই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে থাকবে।
রুশদির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে সাহিত্যপ্রেমী ও প্রযুক্তি মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেও, অন্যদের মত, ভবিষ্যতে AI সৃজনশীল কাজের সহায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে রুশদির অবস্থান স্পষ্ট—সাহিত্য ও শিল্পের আত্মা মানুষের মধ্যেই নিহিত, কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে নয়।















