অনীক দত্তের বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর মতো বহুল আলোচিত ছবির অন্যতম চিত্র্যনাট্যকার-পরিচালক উৎসব মুখার্জি গত দুপুর থেকে নিখোঁজ। ব্যাঙ্কের কাজে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি।বাড়ি থেকে দুপুরবেলা ব্যাঙ্কের কাজে যাবার জন্য বেরিয়েছিলেন উৎসব। তারপর থেকেই আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। 'বরুণবাবুর বন্ধু', 'ভবিষ্যতের ভূত' এই সব সিনেমার গল্প লিখেছিলেন উৎসব। এছাড়াও স্বাধীনভাবেও কিছু কাজ করেছেন।
পরিচালকের স্ত্রী মৌপিয়া ব্যানার্জি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, দুপুর ২ টো ২২ মিনিটে উৎসবের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়৷ তখন তিনি ব্যাঙ্কের ভিতরেই আছেন বলে জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু তার কিছুক্ষণ পর থেকেই পরিচালকের ফোন বন্ধ হয়ে যায়৷ তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি৷ নিজের স্মার্টফোনটি বাড়িতেই রেখে গিয়েছেন উৎসব৷ প্রয়াত বাবার ফোনটি নিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু সেই ফোনও এখন বন্ধ। পরিবারের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে, পরিচালকের খোঁজ পেলে যেন তাঁদের দ্রুত খবর দেওয়া হয়৷ পরিবারের তরফে ইতিমধ্যেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানা গিয়েছে৷ প্রশ্ন উঠছে, তিনি আদৌ ব্যাঙ্কে যেতে পেরেছিলেন কি না? গিয়ে থাকলেও ব্যাঙ্ক থেকে বেরোনোর পরে কী ঘটেছে? নিজের মোবাইল ফোনটাই বা কেন বাড়িতে রেখে গিয়েছেন?
শুক্রবার সকালে উৎসবের স্ত্রী মৌপিয়া ব্যানার্জি সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আজকাল ডট ইন। মৌপিয়া বললেন, "পুলিশকে জানিয়েছি। আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। বিভিন্ন থানা থেকে ইতিমধ্যেই আমার কাছে ফোন এসেছে। উৎসবের কাছে যে ফোনটি ছিল, তার নম্বর ট্র্যাক করে জানা গিয়েছে, সেটি শেষ উল্টোডাঙা স্টেশনের কাছে চালু ছিল। তার পরেই বন্ধ হয়ে যায়। তাই রেল পুলিশের তরফেও ফোন এসেছিল। ছবি ও নির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছি। আসলে...জানেন তো, ক'টা দিন ধরেই একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছিল ও। কিন্তু তার মধ্যেও বেশ কয়েকটি চিত্রনাট্য নিয়ে ঘষামাজা করছিল। আমি তো কিছু বুঝতেই পারছি না। তবে হ্যাঁ, গতকাল ব্যাঙ্ক থেকে ও ৪০,০০০ টাকা তুলেছে। ওর ফোন যেহেতু আমার কাছে, তাই সেখানে সেই বার্তা এসেছে। পাশাপাশি যখন ও ব্যাঙ্কে বেরোচ্ছিল, কাঁধে একটা ব্যাগ ছিল। আজ সকালে লক্ষ্য করলাম ঘরে উৎসবের ল্যাপটপটা নেই! মনে হচ্ছে, ব্যাগে করে ল্যাপটপ নিয়েও বেরিয়েছিল।”
খানিক থেমে মৌপিয়া আরও বলেন, “সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত সমস্যাটা নিয়েও খানিক জেরবার ছিল। মা-বাবার মৃত্যু নিয়েও মন ভারাক্রান্ত থাকত ওর। কিন্তু তার জন্য কখনও ওকে কোনওরকম ওষুধ খেতে দেখিনি। আমার সত্যিই কোনও ধারণা নেই ও কোথায় গেল...কী যে হয়ে গেল বুঝতে পারছি না। একা হাতেই সামলাচ্ছি, যতদূর ফাঁক না রেখে যা যা করা যায়।”
















