রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর তাঁর একাধিক লেখা এবং পোস্ট ভাইরাল হয়েছে যেখানে তাঁর লেখার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সময় বয়স, কারণ মিলে গিয়েছে। এমনকী মাসখানেক আগের পোস্টেও তিনি শেষের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার ভাইরাল 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের দৃশ্য। সেখানেও রাহুলকে বারংবার শেষের কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। আর সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি সবটাই কাকতালীয়, নাকি তিনি তাঁর মৃত্যুর ইঙ্গিত পেয়েছিলেন? 

কী ঘটেছে? এদিন সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, সেখানে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের দুটো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এটি পোস্ট করে এক ব্যক্তি লেখেন, 'কি কাকতালীয়। আমাদের বাড়িতে এই সিরিয়ালটি রোজ দেখা হয় রাতে। গতকাল রাতের এপিসোডটা দেখার সময় কিছু সংলাপ খুব অস্থির করে তুলেছিল। এই সিরিয়ালটি টেলিকাস্টের সময় বিকেলবেলা, ঠিক মোটামুটি দুর্ঘটনা ঘটার আশেপাশের সময়। উনি যেনো নিজের কথা সংলাপের মাধ্যমে বলে চলেছেন। কি কাকতালীয়। ঈশ্বর যেনো বলিয়ে নিচ্ছেন ঠিক সেই সময় কি ঘটে চলেছে। কিছু শব্দ আছে এখানে - "জলের ধারে", "জল কে জড়ানো", "জলের নিচে চলে যান", "আমিও জলে নাবতাম", "পৃথিবী ছেড়ে বিদায়", "বিদায় দিন - বিদায় নি", "কাল থেকে সুখের দিন শুরু, আজ রাত থেকেই শুরু হবে", "এটা শেষ বার", "আমি নতুন জীবনে প্রবেশ করবো", "পিছলে গেছি", "নতুন জীবনে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেবেন", "যাবো, বিদায় নেবো" আর সব শেষে - "আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়", "বিদায় দাও চলে যাই", "আপনার স্ত্রী আপনাকে বিদায় দেবে", "না, যেতে নাহি দিবো", "পাষান, বিন্দু, আমাকে বিদায়।' 

তিনি তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, 'এপিসোডটাই যেনো ওনার বিদায় বার্তা বারবার দিচ্ছে। কি নিষ্ঠুর নিয়তি। সকালে রে-টেলিকাস্ট এর সময়, কিছুটা ভিডিও করলাম। ইংরিজিতে এরি বলে একটা শব্দ, এটা ঠিক যেনো সেরকম। পুরো ভিডিওটা দেখলে বুঝবেন। ওনার অভিনয় চিরকাল খুব ভালো লাগে, এর আগে হরগৌরী পাইস হোটেল বলে একটি সিরিয়ালে পাগল এক দাদার চরিত্র করেছিলেন, কি সাবলীল। পডকাস্ট গুলোতেও কত জ্ঞানের আভাস দেখেছি। তবে এই কয়েকটি সংলাপ অস্থির করেছে নিশ্চয়ই যারা দেখেছেন। ভালো থাকুন, যেখানেই থাকুন। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনয় থেকে যাবে আমাদের মননে। ওনার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।' (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল)

সবটা দেখেশুনে হতভম্ভ হয়ে গিয়েছে নেটপাড়া। এক ব্যক্তি লেখেন, 'সংলাপ এবং মৃত্যু কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে.. না কি মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে! এখানেই সন্দেহের দানা বাঁধছে।' আরও এক ব্যক্তি লেখেন, 'ভাবাই যাচ্ছে না, এটা কী করে সম্ভব?' 

প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লেখেন, 'সূর্যাস্ত ও অরুণোদয় একসাথে দেখার শেষ সুযোগ।' অভিনেতার মৃত্যুর পর ভাইরাল তাঁর এই পোস্ট। অনেকেরই প্রশ্ন কেন খামোকা তিনি এমন লিখলেন। এক ব্যক্তি এই পোস্টে লেখেন, 'এভাবে কথাটা সত্যি করে দিলে দাদা?' ছবিতে নৌকার মধ্যে রাহুলকে রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। দূরে নদীর জলে অস্তগামী সূর্য। অভিনেতা প্রিন্টেড শার্ট এবং রোদচশমা পরে দূরের দিকে তাকিয়ে।

এদিন আরও একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি গল্পের অংশ। ২০১৮ সালে তিনি আর্টিস্ট ফোরামের ম্যাগাজিনের জন্য লিখেছিলেন। সেই লেখার বক্তার বয়স ৪২ ছিল। ঠাকুর ভাসান দিতে গিয়ে জলে পা পিছলে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল প্রধান চরিত্র তথা বক্তার। সেই লেখার সঙ্গেও অভিনেতার মৃত্যুকালের বয়স, জলে তলিয়ে যাওয়া যেন অদ্ভুত ভাবে মিলে গিয়েছে। এমনকী সেই চরিত্রের বৈশিষ্ট্য সঙ্গে রাহুলের সঙ্গে অনেকটাই যেন মিলে যাচ্ছে। 

২৯ মার্চ না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের উজান এবং কুইনের মধুচন্দ্রিমার শুটিং চলছিল। সেই সময়ই হঠাৎই জলে পড়ে যান অভিনেতা। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ৩০ মার্চ ময়নাতদন্তের পর রাহুলের মৃতদেহ কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়। সেদিনই সন্ধ্যায় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য হয়েছে। তাঁর ছেলে সহজ তাঁর মুখাগ্নি করেছে।