বলিউড হোক বা টলিউড—রুপোলি পর্দার চাকচিক্যের আড়ালে বর্ণবিদ্বেষের শিকড় যে কতটা গভীরে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিকটি উন্মোচন করে দেয়।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিব্যেন্দু জানান, একটি বিজ্ঞাপনের জন্য তাঁর সঙ্গে চার-পাঁচ দিন ধরে আলোচনা চলার পর শুটিংয়ের মাত্র তিন দিন আগে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে নির্মাতারা সোজাসুজি তাঁকে বলেছিলেন, "না দাদা, আপনাকে আর নিতে পারব না। আপনাকে বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ আপনি কালো। আমাদের কালো অভিনেতা চাই না।”
দিব্যেন্দু জানান, তিনি নিজের গায়ের রঙ বা পরিচয় নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী, তাই এই মন্তব্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেনি। কিন্তু সিস্টেমের ভেতরে থাকা এই কদর্য মানসিকতা তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছে।
এই বৈষম্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে দিব্যেন্দু সরাসরি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর মতে, সামাজিক নীতি এবং নৈতিকতা প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই শেখানো উচিত। তিনি বলেন, "এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক কিন্তু আপনার করার কিছু নেই। যখন আপনার গোড়াতেই সামাজিক নৈতিকতা বা মূল্যবোধ শেখানো হয় না, তখন এর পরিবর্তন সম্ভব নয়।" এই প্রসঙ্গে তিনি জাপান এবং কোরিয়ার উদাহরণ টেনে জানান যে, সেখানে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা এবং সহমর্মিতা শেখানো হয়। ভারতে এই বিষয়টি কেবল পারিবারিক শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল, যা সবসময় পর্যাপ্ত নয়।
বর্ণবিদ্বেষের শিকার হলেও দিব্যেন্দুর অভিনয় প্রতিভা কিন্তু বারবার স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলো হল,
আনদেখি সিজন ৪ : গত ১ মে সোনি-লিভ -এ মুক্তি পেয়েছে এই সিরিজ। আশিস আর শুক্লা পরিচালিত এই সিরিজে ডিএসপি ঘোষের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ফের চর্চায়।
মামলা লিগ্যাল হ্যায় ২ : নেটফ্লিক্সের এই সিরিজেও তাঁর কাজ সমালোচক এবং দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।















