“সানি দেওল, ববি দেওলের ছবি দেখা বন্ধ করুন। ওরা আমাদের ধর্মেন্দ্রকে একঘরে করে করে দিল”— কিংবদন্তি অভিনেতার শেষযাত্রায় রাগ, কষ্ট এবং শোক মিশ্রিত এই কথাগুলোই যেন বারবার ভেসে আসছিল ভক্তদের মুখ থেকে। কারণ, তাঁরা শেষবারের মতো তাঁদের প্রিয় তারকা ধর্মেন্দ্রকে দেখতে পারেননি।
ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ২৪ নভেম্বর প্রয়াত হন। কিন্তু ভক্তরা এখনও তাঁর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না। ভারতীয় চলচ্চিত্রের মহাতারকার শেষকৃত্য ছিল অত্যন্ত ছিমছাম। একপ্রকার গোপনেই পুরো বিষয়টা সামলায় তাঁর পরিবার। সোমবার সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্স তাঁর জুহুর বাসভবনে প্রবেশ করে। কোনও রকম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই পরিবার দ্রুত পবনহংস শ্মশানে নিয়ে যায় তাঁর মৃতদেহ। কিন্তু কেন সানি ও ববি দেওলের ওপর ক্ষুব্ধ ধর্মেন্দ্রর ভক্তেরা
ধর্মেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। সেই সময় সানি দেওলের রাগ যুক্তিযুক্তই ছিল। তবে এত বড় মাপের এক তারকার বিদায় এমন নীরব এবং সীমিত পরিসরে হওয়া ভক্তদের ব্যথিত করেছে।
শেষকৃত্যের আগে এবং পরে বহু ভক্ত শ্মশানের বাইরে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই বলেন, তাঁরা প্রিয় নায়কের ‘অন্তিম দর্শন’-এর সুযোগই পেলেন না। পবনহংস শ্মশানের বাইরে অপেক্ষমাণ ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যেখানে তাঁরা সানি এবং ববির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading" data-instgrm-version="14">
?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading" target="_blank" rel="noopener">
View this post on Instagram
?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading" target="_blank" rel="noopener">A post shared by Viral Bhayani (@viralbhayani)
এক নারী ভক্ত কান্নামাখা কণ্ঠে বলেন, “সানি দেওল আর ববি দেওলের ছবি দেখা বন্ধ করুন। ওরা চুপিচুপি আমাদের ধর্মেন্দ্রজির শেষকৃত্য করে ফেলেছে।” আরেকজন বয়স্ক ভক্ত বলেন, “ওঁর শেষযাত্রা শ্রীদেবীর মতো হওয়া উচিত ছিল।”
উল্লেখ্য, শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ লোখন্ডওয়ালার সেলিব্রেশন স্পোর্টস ক্লাবে রাখা হয়েছিল, যেখানে হাজার হাজার ভক্ত পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এসে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সেই শেষযাত্রা ছিল একটি বড়সড় জনসমাগম। শেষবারের মতো প্রিয় নায়িকাকে মন ভরে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন ভক্তরা।
ছয় থেকে নয়ের দশক পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সুদর্শন পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হত। এবং তিনি বলিউডে পরিচিত ছিলেন ‘হি-ম্যান’ নামে। আদ্যোপান্ত ‘মশালাদার’ বাণিজ্যিক ছবিকে তিনি এমন সহজাত দক্ষতায় সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন যে, মানুষ তাঁর অভিনয়ে খুঁজে পেত নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। শহর হোক বা গ্রাম, ধনী হোক বা সাধারণ মানুষ— ধর্মেন্দ্র ছিলেন সকলের আপনজন। সেই সময় রিকশার পিছনের পোস্টার থেকে শুরু করে অষ্টাদশীর বইয়ের পাতার ফাঁকেও জায়গা ছিল তাঁরই ছবির। যেন ধর্মেন্দ্র শুধু পর্দার নায়ক নন, সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এক আবেগ, এক মুগ্ধতা।